আন্তর্জাতিক

কার্যকর ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, সস্তা হবে গাড়ি-হুইস্কি-চকোলেট

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারত-যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে।

Truth of Bengal: ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বুধবার থেকে কার্যকর হল। প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ আলোচনা ও ১৪ দফা বৈঠকের পর স্বাক্ষরিত এই ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারত-যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে।

চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে ভারতে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত লিন্ডি ক্যামেরন সমাজমাধ্যমে এক বার্তায় জানান, এই চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে এবং এটি উভয় দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

নতুন চুক্তির ফলে ব্রিটেন থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের উপর গড় আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমে ৩ শতাংশে নেমে আসবে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে ব্রিটেনের প্রায় ৮৫ শতাংশ পণ্য সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত হবে। এর ফলে স্কচ হুইস্কি, জিন, বিলাসবহুল গাড়ি, চকোলেট, বিস্কুট, পোশাক, জুতো, আসবাব, প্রসাধনী, চিকিৎসা সরঞ্জাম, সামুদ্রিক খাদ্য ও বিভিন্ন আমদানিকৃত পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে স্কচ হুইস্কি ও বিলাসবহুল গাড়ির ক্ষেত্রে। বর্তমানে স্কচ হুইস্কির উপর ১৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক ধাপে ধাপে কমিয়ে প্রথমে ৭৫ শতাংশ এবং পরে ৪০ শতাংশ করা হবে। একইভাবে জাগুয়ার, ল্যান্ড রোভার ও রোলস-রয়েসের মতো ব্রিটিশ বিলাসবহুল গাড়ির শুল্ক ১০০ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নামবে, যার ফলে এই গাড়িগুলির দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

অন্যদিকে, ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্যও এই চুক্তি বড় সুযোগ তৈরি করবে। যুক্তরাজ্যে রফতানি হওয়া ভারতের প্রায় ৯৯ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। ফলে তৈরি পোশাক, গৃহস্থালি পণ্য, রত্ন ও গয়না, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, সামুদ্রিক খাদ্য, চা, মশলা, কৃষিজ রাসায়নিক এবং প্রকৌশলজাত পণ্যের রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির সবচেয়ে বেশি সুফল পাবে দেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই)। বর্তমানে ভারতের মোট রফতানির প্রায় ৪০ শতাংশই এই খাতের অবদান। নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রায় ৬ কোটি এমএসএমই সংস্থা উপকৃত হতে পারে। পাশাপাশি ব্রিটেনকে কেন্দ্র করে ইউরোপের বাজারেও ভারতীয় পণ্যের প্রবেশ আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের ধারণা, এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি শুধু দুই দেশের বাণিজ্যই নয়, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং উৎপাদন ক্ষেত্রেও নতুন গতি এনে দেবে। আগামী বছরগুলিতে ভারত-যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

Related Articles