এখনই গ্রেফতার নয় মানসকে, চাকরি প্রতারণা মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রীর স্বস্তি হাইকোর্টে
৫ লাখের বিনিময়ে চাকরি দিয়ে ২ মাসেই বাতিল! কোটি টাকার কেলেঙ্কারি মামলায় হাই কোর্টে বিরাট স্বস্তি মানস ভুঁইঞার!
Truth of Bengal: কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় স্বস্তি পেলেন রাজ্যের বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ তথা প্রাক্তন সেচমন্ত্রী ডা. মানস ভুঁইঞা। চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা করার যে মারাত্মক অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছিল, সেই মামলায় এবার আদালতের কাছ থেকে বড় রক্ষাকবচ পেয়ে গেলেন তিনি। আজ সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই হাই-ভোল্টেজ মামলাটির শুনানি হয়। শুনানিতে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, এই মুহূর্তে প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইঞা-সহ এই মামলার বাকি কোনও অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করা যাবে না। তবে একই সঙ্গে আদালতের তরফে কিছু কড়া শর্তও দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে মানস ভুঁইঞাকে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি নিজের এলাকা সবংয়ের বাইরে যেতে পারবেন না।
পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রতারণার অভিযোগ, সবং থানায় যুবকের মেগা এফআইআর
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পরই মানস ভুঁইঞার বিরুদ্ধে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিকাশ কুমার টুং নামে এক যুবক। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তাঁর স্ত্রী মঞ্জু সাহু টুংকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, তৎকালীন মন্ত্রী ডা. মানস রঞ্জন ভুঁইঞার মধ্যস্থতায় তৃণমূল নেতা শেখ আবু কালাম বক্স ও ভোলানাথদের মাধ্যমে পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এই চাকরির সম্পূর্ণ রফা করা হয়।
অভিযোগপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে, গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ‘CISB Services Private Limited’-এর অধীনে STEWARD পদে তেমাথানির সেচ বাংলোয় কাজে যোগও দিয়েছিলেন মঞ্জু সাহু টুং। তাঁর ওয়ার্কম্যান রেজিস্টার নম্বর ছিল CISB/WB-46। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, চাকরিতে যোগদানের পর নিয়মিত কাজ করলেও মাত্র দু’মাসের মাথায়, গত ৬ মে হঠাৎই তাঁকে জানানো হয় যে তাঁর চাকরি বাতিল করা হয়েছে। এমনকি চাকরি বাতিলের সেই নির্দেশের কপিও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হয় বলে দাবি পরিবারের।
ধারা ৩১৮(৪) ও ৬১(২), জেলা আদালত ঘুরে অবশেষে হাইকোর্টে মিলল রক্ষাকবচ
এই যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতেই সবং থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(৪) এবং ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নামে। ইতিমধ্যেই প্রাক্তন মন্ত্রীকে নোটিস পাঠিয়ে কয়েক ঘণ্টা জেরাও করেছে পুলিশ। এরপরই মেদিনীপুর জেলা আদালতে আগাম জামিনের আর্জি করেছিলেন মানস ভুঁইঞা, কিন্তু সেখানে শুনানি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় চরম গ্রেফতারি আশঙ্কায় সরাসরি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। আর সেখানেই আজ মিলল স্বস্তি। আদালতের রক্ষাকবচ মেলায় আপাতত স্বস্তিতে প্রাক্তন মন্ত্রী ও তাঁর অনুগামীরা, তবে সবংয়ের বাইরে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় কার্যত নিজের গড়েই এখন বন্দি থাকতে হবে এই বর্ষীয়ান নেতাকে।






