তৃণমূল থেকে এসেই রাজ্যসভার টিকিট! ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের মুখ বন্ধ করতে কী দাওয়াই দিলেন দিলীপ?
“ওটা দিল্লির ব্যাপার, বেশি ভাবার দরকার নেই!” শমীক ভট্টাচার্যের অস্বস্তির মাঝেই দলবদলুদের হয়ে সওয়াল করলেন হেভিওয়েট মন্ত্রী
Truth of Bengal: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) হাত ছেড়ে বিজেপিতে (BJP) যোগদানের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের রাজ্যসভার টিকিট পাওয়া নিয়ে সরগরম বাংলার রাজনীতি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে দলবদলুদের এই ‘পুরস্কার’ পাওয়া নিয়ে যখন আদি বিজেপি কর্মীদের মনে ক্ষোভ ও ‘তৃণমূলীকরণ’-এর আশঙ্কা দানা বাঁধছে, ঠিক তখনই আসরে নামলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অসন্তুষ্ট কর্মীদের কার্যত ঠান্ডা জল ঢেলে চুপ করিয়ে দিলেন তিনি। সাফ জানালেন, রাজ্যসভায় বিজেপিরও লোক দরকার এবং কর্মীদের এটা নিয়ে বেশি মাথা না ঘামালেও চলবে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ভরাডুবির পর ঘাসফুল শিবিরের বিরুদ্ধে একপ্রকার বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দুশেখর রায়। তাঁর দেখানো পথেই একে একে রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক এবং কোয়েল মল্লিক। ইস্তফার মাত্র মাসখানেকের মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার সল্টলেকের বিজেপি সদর দপ্তরে গিয়ে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেন সুখেন্দুশেখর, সুস্মিতা ও প্রকাশ। আর সেই রাতেই দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁদের আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে চমকে দেয়।
আগামী ২৪ জুলাই রাজ্যসভার ভোটগ্রহণের দিন ধার্য হয়েছে। তবে বর্তমান রাজ্য বিধানসভার সংখ্যাতত্ত্বের সমীকরণ বলছে, কোনো বিরোধিতার সম্মুখীন না হয়েই সম্পূর্ণ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফের একবার সংসদের উচ্চকক্ষে প্রবেশ করতে চলেছেন এই তিনজন। তফাৎ শুধু একটাই, এবার আর তাঁদের জার্সিতে ঘাসফুল নয়, থাকবে পদ্ম প্রতীক।
“আমাদেরও তো রাজ্যসভায় লোক লাগবে”, কর্মীদের ‘বেশি না ভাবার’ পরামর্শ দিলীপের
এই দলবদল ও চটজলদি টিকিট প্রাপ্তি নিয়ে বিজেপির আদি কর্মী-মহলে যখন তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, তখন ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রবিবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “তাঁরা আগে রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন, ভবিষ্যতেও সাংসদ থাকতে চান। সবচেয়ে বড় কথা, তাঁরা এখন নরেন্দ্র মোদিজির নেতৃত্বে দেশের জন্য কাজ করতে চান, সেকথা আমাদের আগেই জানিয়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তো কোনো বড় অপরাধমূলক মামলা নেই! অতীতে কে কোন দলে ছিলেন, সেটা বড় কথা নয়। এখন আমরা তাঁদের নতুন করে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছি।”
দিলীপবাবু আরও যোগ করেন, “আমাদেরও তো রাজ্যসভায় আসন বাড়াতে হবে, সেখানে বিশ্বস্ত লোক লাগবে। তাই যেসব কর্মীরা এটা নিয়ে বেশি ভাবনাচিন্তা করছেন বা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, তাঁদের বলি, এত ভাবার কোনও দরকার নেই। পুরো বিষয়টাই আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অত্যন্ত সুচারুভাবে বুঝে নেবে।”
শমীক ভট্টাচার্যের ‘তৃণমূলীকরণ’ বিরোধী হুঙ্কার বনাম দিল্লির বাস্তব রাজনীতি
বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বারবার কড়া বার্তা দিয়েছিলেন যে, বিজেপিতে কোনোভাবেই ‘তৃণমূলীকরণ’ হতে দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত সংস্কৃতি যেন পদ্মশিবিরে থাবা না বসায়। কিন্তু তাঁর নিজের হাত ধরেই এই তিন হেভিওয়েটের যোগদানে শমীকের সেই পুরোনো অনড় অবস্থান এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ‘ম্যাজিক ফিগার’ ছুঁতে দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব যে এখন নীতি-আদর্শের চেয়ে সংসদের সংখ্যাতত্ত্বকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে, দিলীপ ঘোষের এই চাণক্যোচিত বয়ানে সেটাই পরিষ্কার হয়ে গেল।






