কলকাতা

“সঙ্গে যাওয়ার তো কেউ নেই, একা মর্নিং ওয়াকে যাবে যাক!” মমতার মিছিল নিয়ে কটাক্ষ দিলীপের

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বুধবার বেলা আড়াইটে নাগাদ বালিগঞ্জ থেকে মিছিল শুরু হবে

Truth of Bengal: বারুইপুর-কাণ্ড-সহ একাধিক ইস্যুতে আজ কলকাতার রাস্তায় মিছিলে নামছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাই কোর্ট শর্তসাপেক্ষে এই মিছিলের অনুমতি দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বুধবার বেলা আড়াইটে নাগাদ বালিগঞ্জ থেকে মিছিল শুরু হবে। বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে কর্মসূচি শেষ করতে হবে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতে যাতে অসুবিধা না হয়, সেই বিষয়েও কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তবে মমতার এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ শাসকদল। বুধবার সকালে মমতার মিছিল নিয়ে কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর মন্তব্য, “উনি মিছিল করবেন বলছেন, কিন্তু হাঁটবে কে? ওনার সঙ্গে তো কেউ নেই। একা মর্নিং ওয়াকে যাবে, যাক! কী আছে।” দিলীপের এই মন্তব্য ঘিরে ফের রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই ইস্যুকেই সামনে রেখে পথে নামতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শাসকদলের পালটা দাবি, তৃণমূল জমানায় গত ১৫ বছরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নারী নির্যাতনের একাধিক ঘটনা ঘটলেও তখন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতার ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছিল। পার্কস্ট্রিট, কামদুনি, হাঁসখালি থেকে অভয়া-কাণ্ড—একাধিক ঘটনায় মমতার মন্তব্য ও অবস্থান ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ বিরোধীদের। কখনও ঘটনাকে ‘ছোট’ করে দেখানো, কখনও নির্যাতিতার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা, আবার কখনও নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় ‘লাভ অ্যাফেয়ার’ মন্তব্য—এসব প্রসঙ্গ ফের সামনে আনছে শাসকদল। অভয়া-কাণ্ডের প্রতিবাদে যখন গোটা বাংলা রাস্তায় নেমেছিল, তখন সেই আন্দোলনকে ‘হুজুগ’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগও তুলছে তারা।

শাসক শিবিরের বক্তব্য, ক্ষমতায় থাকাকালীন নারী নির্যাতনের ঘটনায় যাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, পালাবদলের পর তিনিই এখন বারুইপুর-কাণ্ডকে সামনে রেখে প্রতিবাদে নামতে মরিয়া। অনুমতির জন্য হাই কোর্টে যাওয়াকেও রাজনৈতিকভাবে কটাক্ষ করছে বিজেপি। অন্যদিকে, বারুইপুর-কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, বাংলায় এতদিন অপরাধীরা শাস্তি পায়নি বলেই অপরাধ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছিল। তবে এখন আর সেই পরিস্থিতি চলবে না। দিলীপের হুঁশিয়ারি, “কাউকে ছাড়া হবে না। যারা অন্যায় করেছে, সকলে শাস্তি পাবেই। মানুষ এবার শান্তিতে থাকবে বাংলায়।”

Related Articles