ফুটবল ম্যাচে ‘জেতার’ শাস্তি, তরুণকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নৃশংস খুন, রণক্ষেত্র বারুইপুর হাসপাতাল চত্বর
দেহ ঘরে রেখে রাতভর কুলপি রোড অবরোধ! বারুইপুর হাসপাতালের সামনে পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগে ধুন্ধুমার
গোপাল শীল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে সামান্য বচসা, আর তার জেরেই ঘটে গেল এক হাড়হিম করা নৃশংস হত্যাকাণ্ড! খেলা নিয়ে বন্ধুদের মধ্যে ঝামেলার জেরে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকে কোপানোর অভিযোগ উঠল তাঁরই তিন বন্ধুর বিরুদ্ধে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর ক্ষোভে ও উত্তেজনায় ফুঁসছে গোটা বারুইপুর। অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে রাতভর বারুইপুর হাসপাতালের সামনে কুলপি রোড অবরুদ্ধ করে রাখলেন উত্তেজিত জনতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন খেলার নিয়ম ও গোল দেওয়াকে কেন্দ্র করে চার বন্ধুর মধ্যে আচমকাই তুমুল তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় মাঠের মধ্যেই রাগ সামলাতে না পেরে তিন বন্ধু মিলে অপর এক বন্ধুর বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সজোরে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই যুবক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বাকিরা চম্পট দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস ঘটনার খবর ছড়াতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নেমে মূল অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে গণপিটুনির আশঙ্কায় ও নিরাপত্তার স্বার্থে ধৃতকে বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে এসে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত গোপন স্থানে আটকে রেখেছে পুলিশ।
রাতভর অবরুদ্ধ কুলপি রোড! পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জ ও মারধরের বিস্ফোরক অভিযোগ
এদিকে যুবকের মৃত্যুর খবর চাউর হতেই নিহতের পরিবারের সদস্য এবং শয়ে শয়ে স্থানীয় বাসিন্দা বারুইপুর হাসপাতালের সামনে এসে ভিড় জমান। ধৃত ও পলাতক সমস্ত খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং ফাঁসির দাবিতে তাঁরা হাসপাতালের সামনের প্রধান রাস্তা, কুলপি রোড অবরুদ্ধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধ সোমবার সকাল পর্যন্ত জারি থাকে, যার ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামল বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ, এলাকা এখনও থমথমে
আন্দোলনকারীদের বড় অভিযোগ, গভীর রাতে শান্তিপূর্ণ এই অবরোধ তুলতে গিয়ে পুলিশ সাধারণ মানুষের ওপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করেছে এবং মহিলাদেরও মারধর করা হয়েছে। যদিও আন্দোলনকারীদের এই গুরুতর লাঠিচার্জের অভিযোগের বিষয়ে বারুইপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত অফিশিয়ালি কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বর্তমানে হাসপাতাল ও সংলগ্ন কূলপি রোড এলাকায় যাতে নতুন করে কোনও বড়সড় হিংসা ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে। পলাতক বাকি দুই অভিযুক্তের খোঁজে আশেপাশের সমস্ত এলাকায় চিরুনি তল্লাশি ও নাকা চেকিং চালাচ্ছে পুলিশ। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এই অকালমৃত্যু ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনায় পুরো এলাকায় এখন শোকের ছায়া।


