দেশ

ঘোষণা হল বাদল অধিবেশনের দিনক্ষণ, রণকৌশল সাজাতে কোমর বাঁধছে বিরোধী শিবির

আসন্ন অধিবেশনে দেশহিতৈষী ও অর্থবহ বিতর্ক, আলোচনা এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

Truth of Bengal: আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে সংসদের বহু প্রতীক্ষিত বাদল অধিবেশন। শনিবার কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সামাজিক মাধ্যমে এই দিনক্ষণ ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, এই অধিবেশন আগামী ১৩ অগস্ট পর্যন্ত চলবে। এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট করে রিজিজু লিখেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সুপারিশ মেনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সংসদের উভয় কক্ষে বাদল অধিবেশন ডাকার অনুমতি দিয়েছেন। আসন্ন অধিবেশনে দেশহিতৈষী ও অর্থবহ বিতর্ক, আলোচনা এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারের বাদল অধিবেশন নানা কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও উত্তপ্ত হতে চলেছে। বিশেষ করে গত মাসে বিরোধী শিবিরের একাধিক দলে বড়সড় ভাঙন ধরেছে, যার প্রভাব সরাসরি দেখা যাবে সংসদের অন্দরে। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ নিজেদের মূল দল থেকে আলাদা করে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI) ব্লকের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষ স্তরের নেতারা ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে এই সংযুক্তিকরণের কথা জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার (ইউবিটি) ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ৬ জন দলবদল করে একনাথ শিন্দের শিবসেনায় যোগ দিয়েছেন। ফলে লোকসভায় উদ্ধব শিবিরের শক্তি কমে মাত্র ৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এই দুই দলের বিদ্রোহী পক্ষই এখন সংসদে মূল দল হিসেবে সরকারি স্বীকৃতির দাবি জানাচ্ছে। এ বিষয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা কী সিদ্ধান্ত নেন, তা এই অধিবেশনেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়া তৃণমূলের ৩ জন রাজ্যসভা সাংসদ ইস্তফা দেওয়ায় সেই শূন্য আসনগুলির নির্বাচন নিয়েও রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে থাকবে।

দলীয় ভাঙনের পাশাপাশি এই অধিবেশনে বড়সড় ঝড় তুলতে চলেছে সংবিধানের ১৩০তম সংশোধনী বিল। এই বিলটি বর্তমানে যৌথ সংসদীয় কমিটির (JPC) অধীনে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, আগামী ১৭ জুলাই এই কমিটি বৈঠকে বসে তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করতে পারে, যার পরপরই বিলটি সংসদের টেবিলে পেশ করা হবে। এই বিলের একটি নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিলে বলা হয়েছে, কোনো প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী যদি গ্রেপ্তার হওয়ার পর টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকেন, তবে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের মন্ত্রিত্ব খোয়াবেন।

বিরোধীরা এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে সরব হয়েছেন। কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, মোদী সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এবং বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীদের নিশানা করতেই এই বিতর্কিত বিল পাস করানোর চক্রান্ত করছে। ফলে সংসদে এই বিলকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি, সাম্প্রতিক ‘সিঁদুর অভিযান’-এর সময় কর্তব্যরত জওয়ানদের মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ যে তথ্য দিয়েছিলেন, তা নিয়েও বিরোধীরা সরকারকে কোণঠাসা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব মিলিয়ে ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা বাদল অধিবেশন যে চরম নাটকীয় ও সঙ্ঘাতপূর্ণ হবে, তা বলাই বাহুল্য।