“ঝামেলা ঘরে মেটান!” বিধানসভায় নিজেদের মধ্যেই সংঘাতে শাসকদল, উঠল ‘কালীঘাট তৃণমূল’ খোঁচা
সেই তালিকায় নাম ছিল কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের
Truth of Bengal: তৃণমূলের কোন শিবিরের কোন বিধায়ক বক্তব্য রাখবেন, তা নিয়েই সোমবার তুমুল হট্টগোল তৈরি হল রাজ্য বিধানসভায়। কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত তৃণমূলের বিধায়কদের মধ্যে বচসা শুরু হতেই পরিস্থিতি সরগরম হয়ে ওঠে। সেই সুযোগে তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব নিয়ে একের পর এক কটাক্ষ ছুড়ে দেন শাসকদলের বিধায়করাও। এদিন বিধানসভায় গুন্ডা দমন বিল নিয়ে আলোচনার জন্য বক্তাদের তালিকা স্পিকারের কাছে জমা দেন বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান। সেই তালিকায় নাম ছিল কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের। কিন্তু শোভনদেব জানান, তিনি ওই বিষয়ে বক্তব্য রাখতে চান না। তাঁর বদলে কুণাল ঘোষকে বলার সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
তবে তাতে রাজি হননি স্পিকার। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তালিকায় যার নাম রয়েছে, বক্তব্য রাখার সুযোগ তিনিই পাবেন। তাঁর পরিবর্তে অন্য কাউকে বলার অনুমতি দেওয়া যাবে না। এরপর শোভনদেব বক্তব্য রাখতে উঠে বলেন, “আমরা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস…”। তাঁর এই মন্তব্যের পরই শাসকদলের আসন থেকে কটাক্ষ ভেসে আসে, “ওটা সর্বভারতীয় নয়, কালীঘাট তৃণমূল।” এই মন্তব্যের জেরে বক্তব্য রাখতে গিয়েও থমকে যান শোভনদেব। অন্যদিকে, বক্তৃতার সুযোগ নিয়ে ঋতব্রত তৃণমূলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন কুণাল ঘোষ। দুই শিবিরের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হতেই শাসকদলের বিধায়কদের একাংশকে বলতে শোনা যায়, নিজেদের ঘরের সমস্যা ঘরেই মেটান, বিধানসভায় বসে ঝামেলা করবেন না।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বলেন, তিনি দীর্ঘদিনের সদস্য এবং জানেন যে বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক যে নাম জমা দেন, সেই নামই বক্তার তালিকায় রাখা হয়। এই বিষয়ে শাসকদলের কিছু করার নেই বলেও জানান তিনি। শংকর ঘোষের পরামর্শ, বিষয়টি নিয়ে শোভনদেব যেন বিরোধী দলের মুখ্য সচেতকের সঙ্গেই কথা বলেন। যদিও তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত গুন্ডা দমন বিল নিয়ে বক্তব্য রাখেননি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কুণাল ঘোষ তাঁর কাছে গিয়ে বক্তব্য রাখার অনুরোধ করলেও তিনি রাজি হননি। অন্যদিকে স্পিকারের অনুমতি না মেলায় কুণাল ঘোষও বক্তব্য রাখার সুযোগ পাননি। তৃণমূলের দুই শিবিরের এই প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে বিধানসভা চত্বরে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। গুন্ডা দমন বিল নিয়ে আলোচনার মাঝেই তৃণমূলের অন্দরের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে চলে আসায় শাসকদলের বিধায়কদের কটাক্ষে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অধিবেশন।






