৪৪০ কোটির তহবিল নিয়ে হাইকোর্টে মেগা যুদ্ধ! জরুরি শুনানির আর্জি কালীঘাট শিবিরের
মমতার কালীঘাট বনাম ঋতব্রতের ‘আসল তৃণমূল’! ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ হতেই তোলপাড় কলকাতা হাইকোর্ট
Truth of Bengal: ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে যে ঐতিহাসিক ফাটল ধরেছে, তা এবার দলীয় ব্যাঙ্কের টাকার দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে চরম আকার ধারণ করল। এআইটিসি (AITC)-র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, সোমবার সকালে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল শিবির। মমতার শিবিরের পক্ষে দেশের প্রথিতযশা আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সোমবার দুপুর ২টোর মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে এই মামলার শুনানির আর্জি জানিয়েছেন। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, রাজ্য সরকার, পুলিশ ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ-সহ মামলার অন্য সমস্ত পক্ষকে আগে আইনি নোটিস পাঠাতে হবে। তার পরই সোমবার অথবা মঙ্গলবার শুনানির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ঘটনার সূত্রপাত কদিন আগে, যখন তৃণমূলের দীর্ঘদিনের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে দলীয় ফান্ডের সমস্ত লেনদেন বন্ধ রাখার আবেদন জানান। এর পরই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির, যারা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছে এবং অরূপ রায়কে দলের নতুন চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছে, তারা পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করে পুলিশ ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। যার ফলে তৃণমূলের মূল অ্যাকাউন্টের ২৬০ কোটি এবং ত্রিপুরা ও গোয়ার অ্যাকাউন্টের ১৮০ কোটি, অর্থাৎ মোট ৪৪০ কোটি টাকার লেনদেন সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
“আমি কোষাধ্যক্ষ, হিসাব চাই!”, অরূপ বিশ্বাসের এক চিঠিতেই কাঁপল কালীঘাট
ভোটে পরাজয়ের পরই ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অরূপ বিশ্বাসকে কোষাধ্যক্ষের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাঙ্ককে দেওয়া চিঠিতে অরূপ নিজেকেই ‘বৈধ কোষাধ্যক্ষ’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, তিনি পদে থাকাকালীন দলের বহু ব্ল্যাঙ্ক চেকে সই করে রেখেছিলেন। সেই কোটি কোটি টাকা এখন কোথায়, কী উদ্দেশ্যে এবং কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার কোনো স্পষ্ট হিসাব বা ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট তিনি পাননি। হিসাব না মেলা পর্যন্ত এই ৪৪০ কোটি টাকা যাতে কেউ তুলতে না পারে, সেই জন্যই এই আইনি পদক্ষেপ।
৪৪০ কোটি টাকা উদ্ধারে মরিয়া মমতা, নজর এখন বিচারপতি ভট্টাচার্যের বেঞ্চে
দলীয় ফান্ড এভাবে পুরোপুরি ব্লক হয়ে যাওয়ায় চরম সাংগঠনিক ও আইনি সংকটে পড়েছে কালীঘাট শিবির। দলের দৈনিক খরচ থেকে শুরু করে আইনি লড়াইয়ের খরচ চালানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণেই সুপ্রিম কোর্টের হেভিওয়েট আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভিকে নামিয়ে দ্রুত অ্যাকাউন্ট চালুর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসের দিকে, কারণ এই ৪৪০ কোটির ফয়সালাই ঠিক করে দেবে বাংলার রাজনীতির আগামী গতিপ্রকৃতি।






