কলকাতা

“ফুটপাত-প্ল্যাটফর্ম ব্যবসা করার জায়গা নয়!” খাস কলকাতায় হকার উচ্ছেদ নিয়ে এবার বিস্ফোরক দিলীপ

প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিলেন, “ফুটপাত, রাস্তা, প্ল্যাটফর্ম এগুলো ব্যবসা করার জায়গা নয়

Truth of Bengal: রেল স্টেশন চত্বর থেকে হকার ও অবৈধ দোকান উচ্ছেদের পর এবার কি কলকাতার ফুটপাতেও নামবে অভিযান? রাজ্য সরকারের তরফে শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ—গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলি হকারমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। নিউটাউনের ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিলেন, “ফুটপাত, রাস্তা, প্ল্যাটফর্ম এগুলো ব্যবসা করার জায়গা নয়।” রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই স্টেশন সংলগ্ন এলাকা দখলমুক্ত করতে ধারাবাহিক অভিযান শুরু করেছে রেল। ইতিমধ্যেই হাওড়া, শিয়ালদহ, দমদম-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে অবৈধ দোকান ও হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। এবার সেই একই পথে কলকাতার রাস্তা ও ফুটপাতেও প্রশাসনিক নজরদারি বাড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কলকাতার বহু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরেই হকারদের দখলে থাকার অভিযোগ রয়েছে। উত্তর কলকাতা থেকে দক্ষিণ কলকাতা—একাধিক এলাকায় সাধারণ মানুষ অনেক সময় ফুটপাত দিয়ে হাঁটতেই পারেন না। বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয় পথচারীদের। তার ফলে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ে। অনেক জায়গায় দোকানদারদের সঙ্গে পথচারীদের বচসার অভিযোগও নতুন নয়। এই পরিস্থিতিতেই দিলীপ ঘোষ বলেন, “ফুটপাত, রাস্তা, প্ল্যাটফর্ম এগুলো ব্যবসা করার জায়গা নয়। যারা বসেছেন, যারা বসিয়েছেন, সবাইকেই বুঝতে হবে।” তাঁর বক্তব্য, চেঁচামেচি করে কোনও লাভ হবে না। সাধারণ মানুষ ট্যাক্স দেন, তাঁদেরও নিরাপদে চলাফেরা করার অধিকার আছে।

দিলীপ আরও বলেন, যে ব্যবসায়ীরা নিয়ম মেনে দোকান চালান, তাঁরা ট্যাক্স দেন। কিন্তু তাঁদের দোকানের সামনেই যদি আবার অবৈধভাবে দোকান বসে যায়, তা হলে সেটি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর কথায়, “ফুটপাত পাওয়া যায় না। কলকাতায় এমনিতেই রাস্তা ছোট, তার উপর যানজট। মানুষকে যদি ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়, তা হলে এগুলো পরিষ্কার করতেই হবে।” মন্ত্রী এদিন হকারদের উদ্দেশেও পরোক্ষ বার্তা দেন। তিনি বলেন, “নিজেরা সরে গেলেই ভাল।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই জল্পনা আরও বেড়েছে—স্টেশন চত্বরের পর এবার কি কলকাতার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বড়সড় অভিযান শুরু করবে রাজ্য সরকার? অন্যদিকে, হকারদের একাংশের দাবি, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করলে হাজার হাজার পরিবারের রুটিরুজি বিপন্ন হবে। ফলে একদিকে নাগরিকদের চলাচলের অধিকার, অন্যদিকে হকারদের জীবিকার প্রশ্ন—এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই এখন নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কের কেন্দ্রে কলকাতার ফুটপাত।

Related Articles