কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই মেগা অ্যাকশন! তারাতলা কাণ্ডে কালীচরণকে আটক করল পুলিশ

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের তৎকালীন ওএসডি (অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করা হয়েছে।

Truth of Bengal: কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ একটি গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ার সাম্প্রতিক বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে এবার বড়সড় আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল পুলিশ। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের তৎকালীন ওএসডি (অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ঘটনাচক্রে, এদিন সকালেই বিধানসভায় এবং প্রকাশ্য মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নাম উচ্চারণ না করে এই শীর্ষ আধিকারিককে তীব্র নিশানা করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেছিলেন, ‘‘কলকাতা পুরসভায় ‘কালী’ না-বললে কোনও প্ল্যান পাশ হয় না।’’ শুভেন্দুর সেই বিস্ফোরক মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খোদ মেয়রের ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত এই প্রভাবশালী আমলাকে আটক করল পুলিশ প্রশাসন, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে।

কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত রাজ্য সরকারি কর্মচারী হলেও তাঁর কেরিয়ার শুরু হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে। পরবর্তীতে তিনি আমলা হিসেবে প্রশাসনিক স্তরে যোগ দেন। ২০১৮ সালের শেষ দিকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নাটকীয় পদত্যাগের পর ফিরহাদ হাকিম যখন কলকাতার মেয়র পদে বসেন, ঠিক তখনই ওএসডি হিসেবে কলকাতা পুরসভায় প্রবেশ ঘটে কালীচরণের। অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে তিনি মেয়রের পরম আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন এবং পুরসভার অলিন্দে তাঁর প্রভাব এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, তাঁর সবুজ সংকেত ছাড়া শহরের কোনো বড় নির্মাণকাজের নকশা অনুমোদন পেত না বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তারাতলার যে গুদামের ছাদটি ভেঙে পড়েছে, সেটির ছাড়পত্রেও কলকাতা পুরসভার স্পষ্ট অনুমোদন ছিল। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী খোদ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে জানিয়েছেন যে, উক্ত গুদামটির অনুমোদনপত্রে স্বয়ং ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ নকশা এবং মাটি পরীক্ষা না করেই কীভাবে এই বিপজ্জনক নির্মাণের ছাড়পত্র দেওয়া হলো, তা জানতেই এখন কালীচরণকে জেরা করছে পুলিশ।

তারাতলার এই মর্মান্তিক বহুতল ও গুদাম বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও পর্যন্ত ১৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে মূল এফআইআর-এ (FIR) নাম থাকা চার অভিযুক্তও শামিল রয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, যে জমিতে গুদামটি তৈরি হচ্ছিল, সেটি কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৩০ বছরের জন্য লিজে নিয়েছিল ‘বেহরা ব্রাদার্স’ নামের একটি সংস্থা। ওই সংস্থার মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী লিজের জমিতে নির্মাণের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতির প্রয়োজন হলেও, এক্ষেত্রে তারা কোনো আপত্তি জানায়নি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই বন্দর এলাকাটি আবার ফিরহাদ হাকিমের নিজস্ব বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। ফলে ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং স্থানীয় সিন্ডিকেটরাজের যে যোগসূত্র উঠে আসছে, তা খতিয়ে দেখতেই পুরসভার তৎকালীন শীর্ষ কর্তাদের জালে পুরছে পুলিশ।

Related Articles