সোনার খনির খোঁজে পুলিশ! ‘বান্ধবী’ টিনার গয়না উদ্ধারের পর সব্যসাচী-পত্নী ইন্দ্রাণীকে নোটিস
টিনার ‘স্বর্ণভাণ্ডার’ দেখে চোখ কপালে, এবার ইন্দ্রাণীকে হাজিরার কড়া নির্দেশ, না এলে আইনি পদক্ষেপ
Truth of Bengal: বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা তথা বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তর গ্রেপ্তারির ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। এবার সেই মেগা সোনা-কেলেঙ্কারিতে তদন্তের আঁচ গিয়ে পড়ল সরাসরি সব্যসাচীর অন্দরমহলে। রাজারহাটের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া তাল তাল সোনা এবং কোটি টাকার সোনা কেনার রসিদের আসল রহস্য উদঘাটন করতে এবার সব্যসাচী-পত্নী ইন্দ্রাণী দত্তকে তলব করল বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। তবে দীর্ঘদিন ধরে ইন্দ্রাণীদেবী পলাতক থাকায়, আজ বুধবার তাঁর বিলাসবহুল বাড়ির দেওয়ালে আইনি নোটিস সাঁটিয়ে দিয়ে এল পুলিশ প্রশাসন।
গত ৮ জুন পুলিশের জালে ধরা পড়েন বারাসতের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী সব্যসাচী দত্ত। তদন্তকারীদের দাবি, সব্যসাচী গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই ফোন বন্ধ করে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছেন তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রাণী দত্ত। পুলিশ তাঁর একাধিক সম্ভাব্য ডেরায় তল্লাশি চালালেও এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনো হদিশ মেলেনি। এদিকে সব্যসাচীর বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে রাজারহাটের ফ্ল্যাট থেকে সাড়ে তিন কেজি সোনা উদ্ধার করে চক্ষু চড়কগাছ হয়েছিল তদন্তকারীদের। উদ্ধার হয়েছিল বিপুল পরিমাণ সোনা কেনার রসিদও। এই বিপুল সোনা কার উপার্জনের টাকায় কেনা, তা জানতেই সব্যসাচীর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে পুলিশ।
টিনার ‘স্বর্ণভাণ্ডার’ দেখে চোখ কপালে, এবার নজরে ইন্দ্রাণী
এই মামলার মোড় ঘোরে সোমবার রাতে। সব্যসাচী ঘনিষ্ঠ নদিয়া জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্য টিনা ভৌমিক সাহার তেহট্টের দুই বাড়িতে ম্যারাথন রেইড চালায় বিধাননগর পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৩ কেজি ওজনের নিত্যনতুন ডিজাইনের চোখধাঁধানো সোনার গয়না, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা! টিনার এই বিপুল স্বর্ণভাণ্ডার উদ্ধার হওয়ার পরেই সব্যসাচীর স্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে তদন্তকারীদের মনে।
দ্রুত হাজিরার কড়া নির্দেশ, না এলে আইনি পদক্ষেপ
পুলিশের অনুমান, তোলাবাজির কালো টাকা সোনা বানিয়ে তা টিনা এবং ইন্দ্রাণীর মাধ্যমে নিরাপদ জায়গায় সরানোর ছক কষেছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক। সেই কারণেই বুধবার বিধাননগর উত্তর থানার একটি বিশেষ দল সব্যসাচীর বাড়িতে যায়। ইন্দ্রাণীদেবী বাড়িতে না থাকায় দপ্তরের তরফে তাঁর বাড়ির দেওয়ালে সশরীরে হাজিরার নোটিস টাঙিয়ে দেওয়া হয়। নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইন্দ্রাণী দত্ত থানায় এসে সোনার হিসাব না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদ্ধতিতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে ছাব্বিশের এই জুনে সব্যসাচী দত্তর ‘সোনার খনি’র রহস্য কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।






