কলকাতা

শান্তনু-ঘনিষ্ঠ পুলিশ অফিসার ও সোনা পাপ্পুর পরিবারকে তলব ইডির

পাপ্পুর স্ত্রী সোমা-সহ পরিবারের কয়েকজনকে চলতি সপ্তাহেই ইডি দফতরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

Truth of Bengal: কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকে ঘিরে তদন্তে এবার আরও জাল বিস্তার করল ইডি। সূত্রের খবর, শান্তনুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাধিক পুলিশ অফিসারকে তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের মধ্যে দক্ষিণ কলকাতায় কর্মরত এক সাব-ইনস্পেক্টরও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। শুধু পুলিশ অফিসাররাই নন, কসবার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর পরিবারের সদস্যদেরও ডেকে পাঠিয়েছে ইডি। পাপ্পুর স্ত্রী সোমা-সহ পরিবারের কয়েকজনকে চলতি সপ্তাহেই ইডি দফতরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জের বাসিন্দা সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি দখল, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অস্ত্র আইনেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। সেইসব অভিযোগের সূত্র ধরেই তদন্ত শুরু করে ইডি। তদন্তে পরে উঠে আসে বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারের নাম। তাঁকেও গ্রেফতার করে ইডি। এই মামলার সূত্রেই প্রাক্তন পুলিশকর্তা শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের ফার্ন রোডের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। তল্লাশির পরের দিনই সোনা পাপ্পু সংক্রান্ত মামলায় শান্তনু এবং তাঁর দুই পুত্র সায়ন্তন ও মণীশকে সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে পাঠানো হয়। তবে সেদিন তাঁদের কেউই ইডি দফতরে হাজির হননি বলে সূত্রের দাবি। এর আগেও বালি পাচার মামলায় শান্তনুকে তলব করেছিল ইডি। এপ্রিল মাসে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনুকে হাজিরা দিতে বলা হলেও তিনি যাননি। পরবর্তীতে তাঁর নামে লুক আউট সার্কুলারও জারি হয়। কয়েকবার হাজিরা এড়ানোর পর অবশেষে ইডি দফতরে যান তিনি। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন অধরা থাকার পর গত মাসে আচমকাই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন সোনা পাপ্পু। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকেও গ্রেফতার করে ইডি। বর্তমানে শান্তনু, সোনা পাপ্পু এবং জয় কামদার—তিনজনই জেল হেফাজতে রয়েছেন। এবার সেই সোনা পাপ্পুর মামলাতেই তাঁর স্ত্রী এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় ইডি। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে পাপ্পুর আর্থিক লেনদেন, তাঁর পরিবারের নামে থাকা সম্পত্তি এবং ব্যবসায়িক সংযোগ। কসবার ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় একটি ৭ এমএম পিস্তল উদ্ধার হয়েছিল। পরে ইডির দাবি, গত জানুয়ারি মাসে ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি পাপ্পু তাঁর স্ত্রীর নামে কিনেছিলেন। আগ্নেয়াস্ত্রটি বিক্রি করেছিল জয় কামদারের সংস্থা। ইডি আরও দাবি করেছে, সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে থাকা একটি সংস্থার সঙ্গে বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারের আর্থিক লেনদেন হয়েছিল। সোনা পাপ্পুর সঙ্গে প্রায় দেড় কোটি টাকার লেনদেনের তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে সূত্রের খবর। যদিও জয়ের দাবি, তিনি ব্যবসার প্রয়োজনে সোনা পাপ্পু এবং তাঁর স্ত্রীর সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন।