প্রধানমন্ত্রীকে শুভেন্দুর আবেগঘন চিঠি! ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রত্যয় মুখ্যমন্ত্রীর
তাঁর এই সফরের ঠিক দু'দিন পরেই প্রধানমন্ত্রীকে একটি আবেগঘন চিঠি পাঠালেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গে অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রাজ্য দিবস এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়েছে। এই দুই বিশেষ কর্মসূচিতে যোগ দিতে রাজ্যে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর এই সফরের ঠিক দু’দিন পরেই প্রধানমন্ত্রীকে একটি আবেগঘন চিঠি পাঠালেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২২ জুন, সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের অফিশিয়াল লেটারহেডে পাঠানো এই তিন পাতার চিঠির শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীকে ‘পরম সম্মানীয় মোদীজি’ বলে সম্বোধন করেছেন তিনি। এই চিঠিতে মোদি সরকারের কাশ্মীর নীতি ও সিএএ (CAA)-র ভূয়সী প্রশংসার পাশাপাশি ভারতীয় রাজনীতির প্রবাদপুরুষ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক অবদানের কথাও স্মরণ করা হয়েছে।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গ গত ১৫ বছরের দুর্নীতি ও অপশাসন থেকে অবশেষে মুক্ত হয়েছে এবং এই মুহূর্তে বাংলা সুশাসন, প্রগতি ও সামগ্রিক বিকাশের পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। রাজ্যের কোটি কোটি বাসিন্দার তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি ‘গৈরিক অভিনন্দন’ জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বাংলা ভাষায় লেখা এই চিঠিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান নিয়ে তিনি লেখেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন শ্যামাপ্রসাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় অবিভক্ত ভারতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল পশ্চিমবঙ্গ। তাঁর ঐতিহাসিক লড়াইয়ের জন্যই হিন্দু বাঙালিরা নিজেদের একটি নির্দিষ্ট ভূমি পেয়েছিল।
এর পাশাপাশি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে কুর্নিশ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, মোদি সরকার এই আইন কার্যকর করায় দীর্ঘদিনের শরণার্থী ও উদ্বাস্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে এবং এই আইন নিপীড়িত মানুষের চোখের জল মুছিয়ে দিয়েছে। চিঠিতে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, “১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময়ে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এবং ধর্মীয় উগ্রতার কারণে ধারাবাহিকভাবে যাঁরা পশ্চিমবঙ্গ বা এ দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন, সিএএ-র মাধ্যমে তাঁদের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া ঈশ্বরের আশীর্বাদের মতো।”
চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালটি বাংলার ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, এ বছরই সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বন্দে মাতরম’ গানের সার্ধশতবর্ষ (১৫০ বছর) এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মবর্ষ। একই সাথে এ বছরই বাংলায় নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ দিবস ও আন্তর্জাতিক যোগ দিবস মহাসমারোহে উদযাপিত হলো।
চিঠির শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই আগামী দিনে প্রকৃত ‘সোনার বাংলা’ গড়ে উঠবে এবং সেই লক্ষ্যপূরণে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মাথায় এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরপরই শুভেন্দু অধিকারীর এই আবেগঘন ও প্রশংসাসূচক চিঠি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।






