কলকাতা

“দাদুর লড়াই না থাকলে আজ বাংলাই থাকত না!”, সুরাবর্দির নাম মুছতেই আবেগঘন গোপাল পাঁঠার নাতি

কলকাতার রাজপথে এবার ‘প্রতিরোধের নায়ক’! শুভেন্দুর সিদ্ধান্তে আপ্লুত গোপাল মুখার্জির পরিবার, দিলেন বড় আমন্ত্রণ

Truth of Bengal: কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও প্রধান রাস্তা ‘সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ রাখার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। নতুন রাজ্য সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই আবেগে আপ্লুত ও কৃতজ্ঞ বঙ্গে ‘হিন্দুরক্ষক’ হিসেবে পরিচিত প্রয়াত গোপাল মুখোপাধ্যায়ের (গোপাল পাঁঠা) পরিবার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়েছেন গোপাল পাঁঠার নাতি শান্তনু মুখোপাধ্যায়।

দাদুর ঐতিহাসিক লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে শান্তনু মুখোপাধ্যায় অত্যন্ত আবেগঘনভাবে জানান, “১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট কলকাতার বুকে যে ভয়াবহ দাঙ্গা ও নৃশংসতার অধ্যায় শুরু হয়েছিল, দাদু যদি সেদিন দলবল নিয়ে তার তীব্র প্রতিরোধ গড়ে না তুলতেন, তবে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করত। আজ আমরা যে পশ্চিমবঙ্গকে দেখছি, তা হয়তো এই চেহারায় থাকত না।” তিনি আরও জানান, দাদুর এই অসমসাহসী প্রতিরোধকে সম্মান জানিয়ে প্রতি বছর ১৬ আগস্ট তাঁদের পরিবার ‘প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে উদযাপন করে। গোপাল মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে আয়োজিত আগামী ১৬ আগস্টের বিশেষ অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকার জন্য তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সসম্মানে আমন্ত্রণ জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন।

He was not a Muslim hater,' Gopal Mukherjee's grandson ahead of 'The Bengal  Files' release | Kolkata News - The Indian Express

পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্টের অত্যন্ত কাছে অবস্থিত এই সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ শহরের যাতায়াত ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ধমনী। ১৯৩২ সালে কলকাতা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (KIT) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম উপাচার্য তথা প্রখ্যাত চিকিৎসক স্যর হাসান সুরাবর্দির স্মরণে এই রাস্তাটির নামকরণ করেছিল। তবে ইতিহাসের পাতায় অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহিদ সুরাবর্দির নামটিও জড়িয়ে রয়েছে এক চরম বিতর্কিত অধ্যায়ের সঙ্গে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরই পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ইন্ধনে ১৯৪৬ সালের মহম্মদ আলি জিন্নার ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’ বা ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসে’ কলকাতার রাজপথ সাধারণ হিন্দু বাঙালিদের রক্তে পিচ্ছিল হয়ে উঠেছিল।

Gopal Patha built army to save Hindus, met Gandhi too: grandson on Great  Calcutta Killings

সেই চরম সংকটের মুহূর্তে কলকাতার হিন্দুদের জীবন ও সতীত্ব রক্ষা করতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বউবাজারের মাংস ব্যবসায়ী গোপাল মুখোপাধ্যায়, যিনি লোকমুখে ‘গোপাল পাঁঠা’ নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা পাল্টা প্রতিরোধই সে সময় দাঙ্গাকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্পষ্ট বলেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ দিবসের পুণ্যলগ্নে পুরসভার এই পদক্ষেপ বহু দশকের পুরনো একটি ঐতিহাসিক ভুলকে সংশোধন করল। সরকারের এই সিদ্ধান্তে আমজনতার একাংশের পাশাপাশি খোদ বীর নায়কের পরিবারে এখন আনন্দের হাওয়া।

Related Articles