দেশ

‘তিনি কোটি কোটি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা’, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর

পোস্টে মোদি লেখেন, সাহস, সারল্য, নম্রতা এবং জনসেবার প্রতি অবিচল দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ দ্রৌপদী মুর্মু।

Truth of Bengal: ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনে ভরে উঠল রাজনৈতিক মহল। শনিবার রাষ্ট্রপতির জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স -এ করা একটি পোস্টে রাষ্ট্রপতির দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করার পাশাপাশি তাঁর জীবনসংগ্রাম, জনসেবার প্রতি নিষ্ঠা এবং সমাজকল্যাণে অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

পোস্টে মোদি লেখেন, সাহস, সারল্য, নম্রতা এবং জনসেবার প্রতি অবিচল দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর জীবনযাত্রা দেশের কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ জনজীবনে রাষ্ট্রপতি নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের সেবা করে এসেছেন। বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে তাঁর দায়বদ্ধতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ভারতের উন্নয়নের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার সকলের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় রাষ্ট্রপতির দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কামনা করেন। একই সঙ্গে জানান, শনিবার ওডিশার একটি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও। এক্স-এ দেওয়া বার্তায় তিনি রাষ্ট্রপতির সরল জীবনযাপন, আদিবাসী সমাজের উন্নয়নে তাঁর নিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন। মহাপ্রভু জগন্নাথের কাছে রাষ্ট্রপতির দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের প্রার্থনাও করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৫ জুলাই ভারতের ১৫তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দ্রৌপদী মুর্মু। দেশের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি হওয়ার পাশাপাশি তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত হওয়া সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্যতম। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৫৮ সালের ২০ জুন ওডিশার ময়ূরভঞ্জ জেলার উপরবেদা গ্রামে এক সাঁওতাল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন দ্রৌপদী মুর্মু। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করে পরে ভুবনেশ্বরে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। নিজের গ্রামের প্রথম মেয়ে হিসেবে মাধ্যমিক পাশ এবং কলেজের ডিগ্রি অর্জনের কৃতিত্বও তাঁর। ১৯৭৯ সালে রমাদেবী উইমেনস কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রাম থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার তাঁর এই যাত্রাপথ আজও কোটি মানুষের কাছে অধ্যবসায়, সংগ্রাম এবং সাফল্যের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

Related Articles