দেশ

কংগ্রেসের সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে তৃণমূল? অবশেষে জল্পনা নিয়ে মুখ খুলল হাত শিবির

সোনিয়া-মমতার মেগা বৈঠক নিয়ে খোলসা করলেন জয়রাম রমেশ

Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে মেঘ তৈরি হয়েছিল, তা এবার আরও ঘনীভূত হলো। রাজ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে দিল্লির অলিন্দে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র জল্পনা ছড়িয়েছিল যে, সর্বস্তরে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেস এবার পুরোপুরি মিশে যেতে চলেছে জাতীয় কংগ্রেসের (Indian National Congress) সঙ্গে। বিশেষ করে গত বুধবার কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল যেভাবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিসে সমস্ত রাজ্যের প্রদেশ সভাপতিদের দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছিলেন, তাতে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে ‘লক্ষ্মীবারেই’ বোধহয় ইতিহাস তৈরি হবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার দিল্লির ইন্দিরা ভবনে কংগ্রেসের সেই হাই-ভোল্টেজ বৈঠক শেষে উলটো সুর শোনা গেল শীর্ষ নেতৃত্বের গলায়। তৃণমূল-প্রসঙ্গ তো ওঠেইনি, উলটে জোড়াফুলের বিলীন হওয়ার সমস্ত খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভুয়ো ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিল হাত শিবির।

“যা রটানো হচ্ছে, তার ১ শতাংশও সত্যি নয়”, বিস্ফোরক জয়রাম রমেশ

বৃহস্পতিবার দিল্লির ইন্দিরা ভবনে দেশের সব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে এক ম্যারাথন বৈঠক করেন মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধীরা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা মিডিয়া ইন-চার্জ জয়রাম রমেশ স্পষ্ট ভাষায় ক্ষোভ উগরে দেন। সংবাদমাধ্যমের একাংশকে নিশানা করে তিনি বলেন, “বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও পোর্টালে যে খবরটি দেখানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ভুয়ো। সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সম্পর্ক আজ ৪০ বছরেরও বেশি পুরনো ও ব্যক্তিগত। তাঁদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই নানা বিষয়ে ঘরোয়া কথাবার্তা হয়। কিন্তু আপনারা সংবাদমাধ্যমে যে দল একীভূত হওয়া বা বড় পদের মহাটোপ নিয়ে আলোচনা করছেন, সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিন্দুমাত্র কোনও আলোচনা বা কথা হয়নি।”

Image

বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রে শুধুই নিট-কেলেঙ্কারি ও মূল্যবৃদ্ধি

সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপালও সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট করে দেন যে, এদিনের বৈঠকে কেবল কংগ্রেসের নিজস্ব কর্মসূচি ও দেশের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ছাব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের পর কেন্দ্রের এনডিএ (NDA) সরকারকে চেপে ধরতে একগুচ্ছ আন্দোলনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে এআইসিসি। আগামী কয়েক মাস ধরে দেশজুড়ে মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, এবং সাম্প্রতিক ‘নিট (NEET) কেলেঙ্কারি’ নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি কোণায় কীভাবে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে, তা চূড়ান্ত করে রাজ্য নেতৃত্বকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Image

তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, তৃণমূলকে নিয়ে বৈঠকে এক অক্ষরও আলোচনা না হওয়ায় দুই শিবিরের নিচুতলার অনুগামীরা খানিকটা হতাশ। যেখানে জল্পনা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জাতীয় স্তরে বড় কোনও পদ বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লির শীর্ষ সংগঠনে আনার সিদ্ধান্ত ঘোষণা হবে, সেখানে স্রেফ ‘ভুয়ো খবর’ তকমা দিয়ে কংগ্রেস যেভাবে হাত ধুয়ে ফেলল, তাতে বাংলায় কোণঠাসা তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই আরও কঠিন হয়ে পড়ল।

Related Articles