কলকাতা

অরূপ-স্বরূপের ফ্ল্যাটে বিশাল পুলিশবাহিনী, মেসি-কাণ্ডে তদন্তে নয়া মোড়

ফ্ল্যাট ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও

Truth of Bengal: মেসি কাণ্ড এবং ফেডারেশন বিতর্ককে কেন্দ্র করে বঙ্গে ক্ষমতার অলিন্দে থাকা ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর সাম্রাজ্যে এবার চরম বিপর্যয় নেমে এলো। একদিকে মেসি কাণ্ডে কলকাতা হাই কোর্টের রক্ষাকবচ না পেয়ে এবং পুলিশের জোড়া নোটিস এড়িয়ে এখনও বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেননি রাজ্যের প্রাক্তন বিদ্যুৎ ও ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। অন্যদিকে, তার মাঝেই বেহালার সাহাপুর কলোনিতে অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের যৌথ ফ্ল্যাটে হানা দিল বিশাল পুলিশবাহিনী। এদিন পুলিশ যখন ওই আবাসনে তল্লাশি চালাতে পৌঁছায়, তখন গোটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই ফ্ল্যাটটিতেই মূলত সপরিবারে বসবাস করতেন স্বরূপ বিশ্বাস। হেয়ার ড্রেসারের করা যৌন নির্যাতন এবং তোলাবাজির মামলায় গত বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে স্বরূপকে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারী সূত্রের খবর, ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে চলা একাধিক মামলার অকাট্য নথিপত্র এবং ডিজিটাল প্রমাণ মজুত রয়েছে এই ফ্ল্যাটে—এমন খবরের ভিত্তিতেই এই যৌথ তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত ছিলেন অরূপ বিশ্বাস। বিদ্যুৎ ও ক্রীড়ার মতো একাধিক হেভিওয়েট দপ্তরের মন্ত্রিত্ব সামলেছেন তিনি। অভিযোগ, দাদার সেই মন্ত্রিত্বের বিপুল প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেই ভাই স্বরূপ বিশ্বাস এলাকায় নিজের সমান্তরাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন।টলিউড বা টেকনিশিয়ান স্টুডিও পাড়ায় সিন্ডিকেট রাজ চালানো এবং কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে একচেটিয়া আধিপত্য কায়েম করার অভিযোগ রয়েছে এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। নিউ আলিপুরের নামজাদা ক্লাব ‘সুরুচি সংঘ’ সরকারি জমি জবরদখল করে তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ওই ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় বিলাসবহুল হোটেলের মতো গোপন বেডরুম ও লাক্সারি সেট-আপ তৈরি করে নানাবিধ দুষ্কর্ম চালানো হতো বলেও সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।রাজনৈতিক ক্ষমতাকে হাতিয়ার করে কোটি কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা, তোলাবাজি, জমি সিন্ডিকেট চালানো এবং বেআইনি অস্ত্র রাখার দায়ে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

ভাই স্বরূপ বিশ্বাস ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে থাকলেও, বড় ভাই তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিপদ এখন কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ‘মেসি কাণ্ড’। টিকিটে কালোবাজারি, প্রতারণা, চাঁদাবাজি এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির ইভেন্টের নিরাপত্তায় চরম গাফিলতির অভিযোগে মেসির গোট টুরের আয়োজক শতদ্রু দত্ত অরূপের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। বারাসত আদালত এবং কলকাতা হাই কোর্ট—দুই জায়গাতেই আগাম জামিন ও রক্ষাকবচের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর অরূপের সামনে এখন আইনি পথ কার্যত রুদ্ধ। পুলিশ তাঁকে সোমবার সকাল ১১টার মধ্যে সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য বাড়ির দেওয়ালে নোটিস সেঁটে দিয়ে এসেছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও অরূপ বিশ্বাস থানা চত্বরের ত্রিসীমানায় যাননি।

Related Articles