তৃণমূলের সদস্যপদ ও সাংসদ পদ ছাড়লেন সুখেন্দুশেখর রায়
ইস্তফা দেওয়ার পর দলের জাতীয় স্তরের শীর্ষ নেতাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখারও দাবি জানিয়েছেন সুখেন্দুশেখর।
Truth of Bengal: তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যপদ এবং রাজ্যসভার সাংসদ পদ—উভয় থেকেই একযোগে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ নেতা সুখেন্দুশেখর রায়। সোমবার সকালে দেশের রাজধানী দিল্লি থেকে দল ছাড়ার এই বড় ঘোষণা করেন তিনি। পদত্যাগের পরেই আরজি করের নৃশংস ধর্ষণ-খুনের ঘটনা এবং দলের অন্দরে বেলাগাম দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক তোপ দাগেন তিনি। সুখেন্দুশেখরের দাবি, আরজি কর-কাণ্ডের ঠিক পরেই তিনি দল ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন, এত দিনে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করলেন। অন্যদিকে, সুখেন্দুশেখরের এই নাটকীয় ইস্তফার মাঝেই তৃণমূলের অপর এক রাজ্যসভার সাংসদ কোয়েল মল্লিককে নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনিও শীঘ্রই দল ছাড়তে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে, যদিও কোয়েল নিজে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে এই বিষয়ে কোনও ঘোষণা করেননি। সব মিলিয়ে, সুখেন্দুশেখরের হাত ধরে দিল্লিতে তৃণমূলের ঘর ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, সোমবার দিল্লিতে বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)-র একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই দেশের রাজধানীতে পৌঁছে গিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আম আদমি পার্টি (AAP) এবং ডিএমকে (DMK) ছাড়া বাকি সবকটি বিরোধী দলই এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবে বলে খবর। কিন্তু এই হাইভোল্টেজ বৈঠক শুরু হওয়ার ঠিক আগেই সুখেন্দুশেখরের এই ইস্তফা জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলকে এক চরম অস্বস্তির মুখে ফেলে দিল।
বস্তুত, গত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূলের শোচনীয় ভরাডুবির পর থেকেই দলের একাংশের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। বিশেষ করে আরজি কর-কাণ্ডের সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো সওয়াল করেছিলেন তিনি। তবে সরকার বদলের পর তিনি আর চুপ করে থাকেননি; সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের ইস্তমাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্র থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বত্র বেলাগাম দুর্নীতির কথা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন তিনি। দিল্লি থেকে প্রবীণ এই রাজনীতিক ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী দিনে সক্রিয় রাজনীতি থেকেও তিনি পাকাপাকি ভাবে অবসর নিতে পারেন। সুখেন্দুশেখরের দাবি, দলের অন্দরে দুর্নীতি এবং তা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, তাই এই পতন অনিবার্যই ছিল। তবে তৃণমূলের সকলেই অসৎ, এ কথা তিনি মানতে চাননি। তাঁর দাবি, দলের সৎ নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই অন্দরে চরম কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন।
ইস্তফা দেওয়ার পর দলের জাতীয় স্তরের শীর্ষ নেতাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখারও দাবি জানিয়েছেন সুখেন্দুশেখর। আরজি করের ঘটনা প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আরজি কর নিয়ে তো আমি প্রকাশ্যে মুখ খুলেছিলাম। সেই কারণেই অনেক দিন ধরে দলের ভিতরে আমাকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। আমার অপরাধ ছিল, আমি সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্তের দাবি করেছিলাম। কারণ আমি এখনও বিশ্বাস করি, ওই ঘটনার তথ্যপ্রমাণ লোপাটে পুলিশের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। মূল দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছিল। তখনই আমি ঠিক করি, এই দলে আর বেশি দিন থাকব না। শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছিলাম।’’






