রাজ্যের খবর

ফারাক্কায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা তালিকায় ফের পুরুষের নাম, সরব বিজেপি

বহরমপুর, রঘুনাথগঞ্জ ও ডোমকলের পর এবার ফরাক্কা ব্লকের উপভোক্তা তালিকায় একাধিক পুরুষের নাম থাকার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি।

Truth of Bengal: কল্যাণ বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: মহিলাদের আর্থিক সহায়তার উদ্দেশ্যে চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে ঘিরে ফের বিতর্ক দানা বাঁধল মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায়। বহরমপুর, রঘুনাথগঞ্জ ও ডোমকলের পর এবার ফরাক্কা ব্লকের উপভোক্তা তালিকায় একাধিক পুরুষের নাম থাকার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি। অভিযোগ, প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকায় নাম থাকা কয়েকজন পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদানের টাকা জমাও হয়েছে।

উল্লেখ্য, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পটি মূলত রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য চালু করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি একাধিক এলাকায় এই প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় পুরুষদের নাম উঠে আসায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে প্রকল্পের তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া। এর আগে বহরমপুরের রাকিবুল ইসলাম, রঘুনাথগঞ্জের মুস্তাফিজুর রহমান, তারিকুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামের নাম উপভোক্তা তালিকায় থাকার অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তে নেমে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিস মিলেছে, যার মাধ্যমে সরকারি অর্থ লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এবার একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে ফরাক্কা ব্লকে। বিজেপির ফরাক্কা মণ্ডল-২ সভাপতি পিন্টু মণ্ডলের দাবি, উপভোক্তাদের তালিকায় ইন্দাত হোসেন, তাঞ্জিল শেখ, বকুল বিশ্বাস-সহ একাধিক পুরুষের নাম রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, এর পিছনে বৃহত্তর অনিয়ম বা দুর্নীতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

পিন্টু মণ্ডল বলেন, যাঁদের নাম তালিকায় রয়েছে, তাঁরা পুরুষ। কীভাবে তাঁদের নাম মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট প্রকল্পের তালিকায় এল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রশাসনের অবিলম্বে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তালিকায় নাম থাকা ফরাক্কার বাসিন্দা ইন্দাত হোসেন। তাঁর দাবি, আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের কোনও টাকা জমা পড়েনি। কীভাবে বা কেন আমার নাম ওই তালিকায় রয়েছে, তা আমি জানি না।

এ বিষয়ে ফরাক্কার ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক তদন্ত ও পদক্ষেপ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। ফরাক্কায় নতুন করে এই অভিযোগ সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের একাংশের প্রশ্ন, মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি প্রকল্পে বারবার পুরুষদের নাম উঠে আসছে কীভাবে? অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় প্রশাসনের ভূমিকা এবং তথ্য যাচাই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

 

Related Articles