শওকত মোল্লা গ্রেফতার হতেই ভাঙড়ে অকাল হোলি! আবির খেলে, ডিজে বাজিয়ে আইএসএফ-এর বেনজির উৎসব
শুধু আবির খেলাই নয়, ক্যানিং ও ভাঙড়ের অলিতে-গলিতে ডিজে বক্সে তীব্র আওয়াজে বাজানো হয় বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাইরাল হওয়া শওকত-বিরোধী ‘মাছ চোর’ গান
Truth of Bengal: ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের একদা দাপুটে নেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা এনআইএ (NIA)-এর জালে ধরা পড়তেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মাতলেন সাধারণ মানুষ ও আইএসএফ (ISF) কর্মীরা। ভাঙড়ের একাধিক ব্লকে রীতিমতো অকাল হোলির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে আবির খেলায় মেতে ওঠেন কাতারে কাতারে মানুষ। শুধু আবির খেলাই নয়, ক্যানিং ও ভাঙড়ের অলিতে-গলিতে ডিজে বক্সে তীব্র আওয়াজে বাজানো হয় বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাইরাল হওয়া শওকত-বিরোধী ‘মাছ চোর’ গান। সেই গানের তালেই সাধারণ মানুষকে কোমর দোলাতেও দেখা যায়। তৃণমূল জমানার শুরুর দিকে ভাঙড়ের বেতাজ বাদশা ছিলেন আরাবুল ইসলাম। পরবর্তীতে দল তাঁকে বহিষ্কার করার পর ভাঙড়-ক্যানিং চত্বরে উত্থান ঘটে শওকত মোল্লার, যার জেরে শওকতের ওপর দীর্ঘদিনের তীব্র ক্ষোভ ছিল আরাবুলের। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দলবদল করে আইএসএফে যোগ দিয়ে ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। ভোটে পরাজিত হলেও, নিজের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শওকতের এই পরিণতিতে আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি আরাবুল।
শনিবার সকালে মুখে প্রশান্তির হাসি নিয়ে নিজেই বাজারে গিয়ে থরে থরে মিষ্টি কেনেন আরাবুল ইসলাম। এরপর ভাঙড়ের সাধারণ মানুষ এবং দলীয় কর্মীদের কাছে ঘুরে ঘুরে নিজে হাতে সেই মিষ্টি মুখ করান তিনি। শওকতের এই গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে আরাবুল বলেন, “শওকত মোল্লাকে এনআইএ গ্রেপ্তার করে একদম ঠিক কাজ করেছে। আমি এই ঘটনায় অত্যন্ত খুশি। কিন্তু শুধু গ্রেপ্তারিই বড় কথা নয়, ভাঙড় আর ক্যানিংয়ের মানুষের ওপর ও যে অকথ্য অত্যাচার করেছে, তার জন্য শওকত মোল্লার ফাঁসি হওয়া উচিত। ওর নামে একাধিক খুনের মামলা রয়েছে।”ভাঙড়ে বিগত কয়েক বছরের রাজনৈতিক হিংসা ও ভোট প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে আরাবুল আরও অভিযোগ করেন, “এই এলাকায় শওকত কোনওদিন গণতন্ত্রের পরিবেশ রাখেনি। ক্যানিংয়ের মানুষকে ও কখনও নিজের ভোট নিজে দিতে দেয়নি। এবারের নির্বাচনেও ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের সমস্ত বুথ গায়ের জোরে দখল করার নীল নকশা তৈরি করছিল ও। ক্যানিং আর ভাঙড়ের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললেই বোঝা যাবে শওকতের বিরুদ্ধে তাঁদের ক্ষোভ কতটা গভীর।”




