মণিপুরে ফের মহাসঙ্কট! ২০ জন কুকি ও নাগাকে পণবন্দি করল জঙ্গিরা, নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সরব দুই মুখ্যমন্ত্রী
চলন্ত গাড়িতে ঝাঁঝরা হলেন চার ধর্মগুরু! এবার কুকি-নাগাদের বাঁচাতে ময়দানে নামলেন দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী
Truth of Bengal: বিগত কয়েক বছর ধরে চলা জাতিগত হিংসার আগুন এখনও পুরোপুরি নেভেনি মণিপুরে। এরই মধ্যে রাজ্যের উখরুল জেলার লিতান থানার অন্তর্গত ইম্ফল-উখরুল সড়কে ২০ জন নিরীহ নাগরিককে পণবন্দি করার এক মারাত্মক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। অপহৃতদের মধ্যে ১৪ জন কুকি এবং ৬ জন নাগা সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছেন নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও এবং মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা। মণিপুর প্রশাসনের কাছে তাঁরা অবিলম্বে এই ২০ জন নাগরিকের নিঃশর্ত ও নিরাপদ মুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে বন্দি থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বন্দোবস্ত নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়েছে।
চলন্ত গাড়িতে নির্বিচারে গুলি, নিহত ৪ ধর্মগুরু!
এই রুদ্ধশ্বাস পণবন্দি সঙ্কটের সূত্রপাত হয়েছিল গত ১৩ মে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সে দিন সকাল ১০টা নাগাদ উখরুল রোডে দুটি যাত্রীবাহী গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিতে ও নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে একদল সশস্ত্র জঙ্গি। বুলেটের আঘাতে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন উত্তর-পূর্বের মণিপুর ব্যাপটিস্ট কনভেনশনের (MBC) প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড ড. ভি সিতলহৌ, রেভারেন্ড কাইগোলুন, যাজক পাওগোলেন এবং গাড়ির চালক লেলেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন গাড়িতে থাকা বাকি ২০ জন যাত্রী, যাদের পরে জঙ্গিরা পণবন্দি করে বলে জানা যায়। দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত হিংসার আবহে এভাবে ধর্মীয় নেতাদের ওপর লক্ষ্যভ্রষ্ট এবং অমানবিক হামলা উত্তর-পূর্বের শান্তি প্রক্রিয়াকে এক ধাক্কায় অনেকটাই পিছিয়ে দিল।
“এটি বর্বর ও অমানবিক কাজ”, গর্জে উঠল ক্রিশ্চিয়ান ফোরাম
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ‘ইউনাইটেড ক্রিশ্চিয়ান ফোরাম অফ নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া’। ফোরামের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র অ্যালেন ব্রুকস এক কড়া বিবৃতিতে জানান, “যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁরা সারা জীবন উত্তর-পূর্বের মানুষের শান্তি, সম্প্রীতি ও আধ্যাত্মিক সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন। এই কাপুরুষোচিত হামলা শুধু নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ওপর নয়, বরং গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের ভ্রাতৃত্ববোধ ও জীবনের পবিত্রতার ওপর এক চরম আঘাত।”
ফোরামের তরফে অবিলম্বে ভারত সরকার এবং মণিপুরের রাজ্য সরকারের কাছে এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। দোষীদের যাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এদিকে দুই প্রতিবেশী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে মণিপুর সরকার এই পণবন্দিদের উদ্ধার করতে কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।






