রাজ্যের খবর

৪৯ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান! রাজ্য মন্ত্রিসভায় শ্রীরামপুরের ভাস্কর, আনন্দে আত্মহারা শহরবাসী

মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সন্ধ্যায় ভাস্কর ভট্টাচার্য মাহেশের বিজেপি বিধায়কের অফিসে আসেন

তরুণ মুখোপাধ্যায়, হুগলি: সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীরা শপথ নিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীরামপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য। শ্রীরামপুরের সাধারণ মানুষ ভাস্কর বাবুর মন্ত্রী হওয়ায় আনন্দে আবেগে উৎফুল্লিত। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে দীর্ঘ প্রায় ৪৯ বছর পর শ্রীরামপুর থেকে নির্বাচিত কোনো বিধায়ক রাজ্য মন্ত্রিসভার স্থান পেলেন। শেষবার ১৯৭২ সালে সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারের মন্ত্রি হিসেবে শ্রীরামপুরের ভূমিপুত্র ডাক্তার গোপাল দাসনাথ মন্ত্রী হয়েছিলেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর শ্রীরামপুরের আর এক অত্যন্ত সজ্জন ভূমিপুত্র ভাস্কর ভট্টাচার্যের মন্ত্রী হওয়ায় খুশি সব মহলে। এদিন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সন্ধ্যায় ভাস্কর ভট্টাচার্য মাহেশের বিজেপি বিধায়কের অফিসে আসেন, তার অনেক আগে থেকে বহু মানুষ সেখানে অপেক্ষা করছিলেন তার জন্য।

ফুল মালা উত্তরীয় দিয়ে তাঁকে সাদরে বরণ করে নেন বিজেপির পার্টি কর্মী সহ শ্রীরামপুরের সাধারণ মানুষজন। এরই ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী ভাসর ভট্টাচার্য জানান দায়িত্ব আমার অনেক বেড়ে গেল প্রথমে আমি শ্রীরামপুরের বিধায়ক ছিলাম। আজকে দল আমায় মন্ত্রী করে যে দায়িত্ব দিয়েছেন তাতে শ্রীরামপুরের সঙ্গে সঙ্গে সারা রাজ্যের উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী যে নির্দেশ দেবেন সেই ব্যাপারে আমি সচেষ্ট থাকব। এর সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলেন বিজেপি কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বিজেপি সাধারণ মানুষের মঙ্গলের কথা সদা সর্বদা চিন্তা করে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী সব সময় চান দেশের কি করে ভালো হয় দেশের মানুষের কি করে ভালো হয় আর সেই চেষ্টাই তাঁরা করে যাচ্ছেন।

নির্বাচনের সময় তিনি শ্রীরামপুর মানুষকে বলেছিলেন বহু প্রাচীন নিদর্শন এই শহর জুড়ে রয়েছে। সেই সমস্ত নিদর্শনকে পর্যটন প্রিয় মানুষদের যাতে আকৃষ্ট করা যায় সেই ব্যাপারে একটা পর্যটন সার্কিট করার তার ইচ্ছা আছে এর সঙ্গে সঙ্গে এই শহরের শিক্ষাব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যাপারেও তিনি জোর দেবেন বলে অঙ্গীকারবদ্ধ। অন্যদিকে শ্রীরামপুরের সংস্কৃতিক কর্মী সমীর সাহা জানান শিল্প সংস্কৃতি থেকে শুরু করে শিক্ষা স্বাস্থ্য এইসব বিষয়গুলি যাতে উন্নত করা যায় সেই প্রত্যাশা রয়েছে শহরবাসীর। এ ছাড়াও এখানকার সংস্কৃতি প্রেমী মানুষ এবং প্রেমীরা ঐতিহাসিক এই শহরে একটি অডিটোরিয়াম এর ব্যাপারে বারবার বলে আসছেন আমার আশা এই ব্যাপারটাও মন্ত্রী হিসেবে ভাস্কর বাবু নজর দেবেন।

Related Articles