রান্নার গ্যাসের অভাবে কাঠই ভরসা! শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালে ঘনীভূত এলপিজি সংকট
বিপাকে পড়ছেন রুগীর আত্মীয়স্বজনও
তরুণ মুখোপাধ্যায়, হুগলি: যুদ্ধের আবহে এলপিজি সংকট এবার হাসপাতালেও প্রভাব ফেলল। গত কয়েকদিন শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালে এলপিজি সংকটে চরম বিপাকের মধ্যে রোগীরা রয়েছে এই হাসপাতালে প্রতিদিন ৩০০ জনের রান্না হয়। এতে মাসের প্রায় পয়েন্ট ৪৫ থেকে ৫০ টি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এখন এমন অবস্থা যে সাত থেকে আটটা সিলিন্ডার জুটছে, ফলে বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। তৈরী হয়েছে কাঠের উনুন। কেনা হচ্ছে জ্বালানি কাঠ।
শুধু হাসপাতালের রোগীরাই নয়। বিপাকে পড়ছেন রুগীর আত্মীয়স্বজনও। হাসপাতালের আশেপাশে যেসমস্ত ছোটোখাটো খাবারের দোকান আছে, রুগীর বাড়ির লোকেরা এতদিন সেখানেই খাওয়াদাওয়া সারতেন। কিন্তু এলপিজির অভাবে সেগুলিও বন্ধ হওয়ার মুখে। ফলে রুগী ভর্তি করে বা অপারেশনের দিন দীর্ঘক্ষণ খাবার পাচ্ছেন না রুগীর আত্মীয় পরিজন।
পাশাপাশি এলপিজির অভাবে অধিকাংশ অটোচালক বন্ধ রেখেছেন অটো পরিষেবা। ফলে শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতাল থেকে শেওড়াফুলি স্টেশন পর্যন্ত অটোরিকশা পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে রুগীদের যাতায়াতে।
সাম্প্রতিক কালের এই সঙ্কট অতীতে কখনও হয়নি। বহু জটিল অপারেশন শ্রমজীবী হাসপাতালে হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসেন রুগীরা। যাঁদের পক্ষে বাড়ি থেকে খাবার আনা সম্ভব নয়।
শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালের রন্ধনকর্মী বাসুদেব আঁকুড়ের কথায়, এভাবে কাঠে রান্না করা খুবই কষ্টকর। হাসপাতালে ধোঁয়াও হয়। কোনও রকমে একটি-দুটি পদ রান্না হচ্ছে। হাসপাতালের সহসম্পাদক গৌতম সরকারের বক্তব্য, এভাবে কদিন চালানো যাবে বুঝতে পারছি না। রুগীদের পাশাপাশি চিকিৎসক ও হাসপাতালের সকল স্তরের সেবিকা, কর্মীদের খাবার দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে। সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবিলম্বে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এলপিজি সরবার নিশ্চিত করুক।






