রাজ্যের খবর

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার মায়াপুরে শুভেন্দু অধিকারী!করলেন গো-সেবা

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথমবার তিনি মায়াপুরের ইসকন মন্দিরে আসলেন।

গত মঙ্গলবার নদীয়া জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে বৃহস্পতিবার ফের জেলা সফরে এলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে এবারের সফরটি কোনও প্রশাসনিক পর্যালোচনা বা রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য নয়, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথমবার তিনি মায়াপুরের ইসকন মন্দিরে আসলেন। আপাতদৃষ্টিতে আধ্যাত্মিক এই সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার মুখে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মায়াপুরের ইসকন মন্দিরের একটি বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে মায়াপুরে এসেছিলেন শুভেন্দু নিজেও। ফলে সেই স্মৃতির রেশ টেনে তাঁর এবারের এই একক সফর নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ খোঁজার চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর এর আগেই তিনি কলকাতার উপকণ্ঠে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান কার্যালয় বেলুড় মঠ দর্শনে গিয়েছিলেন। গত ২১ মে বেলুড়ে গিয়ে মঠের প্রবীণ মহারাজদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি। সে সময় বেলুড় মঠের তরফে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে স্বামী বিবেকানন্দের বই এবং ফুলের তোড়া দিয়ে আন্তরিকভাবে সংবর্ধনা জানানো হয়েছিল। বেলুড় মঠের পর এবার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর মায়াপুর সফর স্বাভাবিকভাবেই গোটা রাজ্যের মানুষের মধ্যে তুমুল কৌতূহল তৈরি করেছে। ইসকন কর্তৃপক্ষের বিশেষ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এদিন বৃহস্পতিবার সাতসকালে মায়াপুরের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। হাওড়ার ডুমুরজলা হেলিপ্যাড ময়দান থেকে বিশেষ হেলিকপ্টারে চড়ে তিনি সোজা চলে যান নদীয়ায়। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক সকাল ১১টা, মায়াপুরের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে অবতরণ করে মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার। সেখানে অপেক্ষারত দেশি-বিদেশি সাধুসন্তদের সঙ্গে হাত জোড় করে সৌজন্য বিনিময় সারেন তিনি।

হেলিপ্যাড থেকে মুখ্যমন্ত্রী সোজা পৌঁছে যান ইসকনের গোশালায়। জানা গিয়েছে, ওই গোশালায় আরতি ও গো-সেবা করার পাশাপাশি নিজের হাতে তাদের খাওয়ানোর একটি বিশেষ কর্মসূচিও ছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। গোশালার এই পর্বের পর তিনি যান মায়াপুরের মূল আকর্ষণ তথা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় কেন্দ্র চন্দ্রোদয় মন্দিরে। সেখানে বিগ্রহ দর্শনের পাশাপাশি শ্রী শ্রী রাধামাধবের চরণে বিশেষ পুজো দেন তিনি। একই সঙ্গে মন্দিরের মঙ্গল কামনায় আয়োজিত একটি বিশেষ যজ্ঞানুষ্ঠানেও পূর্ণাহুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজো ও যজ্ঞ শেষ করে ইসকন মন্দিরের শীর্ষস্থানীয় সাধুসন্ত ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও বসার কথা রয়েছে তাঁর।

স্বভাবতই, মুখ্যমন্ত্রীর এই মায়াপুর সফরকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গোটা মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল এককথায় নিশ্ছিদ্র ও চোখে পড়ার মতো। মুখ্যমন্ত্রী ইসকনে পা রাখার অনেক আগে থেকেই সেখানে ভক্ত ও আবাসিকদের মধ্যে এক উৎসবের মেজাজ তৈরি হয়েছিল। প্রথা মেনে খোল-করতাল ও সুমধুর হরেকৃষ্ণ কীর্তনের তালে তালে এবং পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে মায়াপুরে জমকালো স্বাগত জানান ইসকন কর্তৃপক্ষ।

Related Articles