রাজ্যের খবর

আসানসোলের নামী স্কুলে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি! সামার ক্যাম্পের সুইমিং পুলে ডুবে মৃত্যু পড়ুয়ার

স্কুলের পুলে ছাত্রের সলিল সমাধি! সেন্ট ভিনসেন্টের নিরাপত্তা ও লাইফগার্ড নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবকেরা

উজ্জ্বল দাশগুপ্ত, আসানসোল: আসানসোলের অন্যতম প্রাচীন ও নামী ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেন্ট ভিনসেন্ট স্কুলে ঘটে গেল হৃদয়বিদারক ঘটনা। স্কুলের সামার ক্যাম্প চলাকালীন সুইমিং পুলে ডুবে মৃত্যু হল এক ছাত্রের। বৃহস্পতিবার সকালের এই ঘটনায় গোটা শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সুইমিং প্রশিক্ষণের তদারকি নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন।

মৃত ছাত্রের নাম আদ্রিক হিলিরিয়ান (১৬)। সে আসানসোল দক্ষিণ থানার লোয়ার চেলিডাঙ্গার হুচুক পাড়ার বাসিন্দা এবং সেন্ট ভিনসেন্ট স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে স্কুলে সামার ক্যাম্প চলছিল। সেই ক্যাম্পের অংশ হিসেবেই বৃহস্পতিবার সকালে সুইমিং প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

অভিযোগ, অন্যান্য পড়ুয়াদের সঙ্গে সাঁতার কাটার সময় আচমকাই জলের মধ্যে তলিয়ে যেতে শুরু করে আদ্রিক। ঘটনাটি নজরে আসতেই শিক্ষক ও স্কুল কর্মীরা ছুটে যান এবং তাকে উদ্ধার করে দ্রুত আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল চত্বরে ভিড় জমায় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃত ছাত্রের মা-বাবা। স্কুলের অধ্যক্ষ রবি ভিক্টরও হাসপাতালে পৌঁছান। ঘটনায় স্কুল ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।

এই ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, সুইমিং পুলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি? প্রশিক্ষণের সময় লাইফগার্ড বা পর্যাপ্ত নজরদারি ছিল কিনা, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিভাবকদের একাংশের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষের আরও বেশি সতর্ক থাকা উচিত ছিল।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও আসানসোলে সুইমিং পুলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। কয়েক বছর আগে আসানসোল ক্লাবেও একই ধরনের দুর্ঘটনায় এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছিল। ফলে ফের একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে উদ্বেগ বাড়ছে শহরবাসীর মধ্যে।

আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, কোনও গাফিলতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষও অভ্যন্তরীণভাবে তথ্য সংগ্রহ ও ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত স্কুল প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

Related Articles