‘আজ আমি আর মমতা দু’জনেই সর্বহারা!’ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক রত্না দেবনাথ
সামাজিক মাধ্যমে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র খোঁচা দিয়ে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করলেন নির্যাতিতার মা
Truth of Bengal: আরজি কর হাসপাতালের নৃশংস ঘটনার বিচার চেয়ে একদা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক মধ্যবিত্ত পরিবারের বধূ। সময়ের আবর্তে আজ সেই রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। সেদিনের সেই মুখ্যমন্ত্রী এখন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের নেত্রী, আর নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ বর্তমানে পানিহাটির নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধি। সোমবার রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতর নবান্নে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন তিনি। আর নবান্নের সেই চৌদ্দ তলার ঘরে বসেই সামাজিক মাধ্যমে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র খোঁচা দিয়ে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করলেন নির্যাতিতার মা।
রত্না দেবনাথ তাঁর পোস্টে লেখেন, সততার শক্তি অপরিসীম, শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধৈর্য ধরে লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গদি হারানোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি অত্যন্ত আবেগঘন ও কড়া সুরে লেখেন, আজ তিনি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুজনেই সর্বহারা। তিনি তাঁর একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে আজ মানুষের কাজ করার প্রতিজ্ঞায় ব্রতী হয়েছেন, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারিয়েছেন তাঁর নবান্নের চৌদ্দ তলার গদি। এখানেই শেষ না করে তিনি আরও লেখেন যে, আগামী দিনে তৃণমূলনেত্রী এবং তাঁর দলের অপরাধী টিমের আরও করুণ পরিণতি সকলে দেখতে পাবেন। পোস্টের শেষে তিনি নিজেকে আরজি করের সেই চিকিৎসক কন্যার গর্বিত মা হিসেবে পরিচয় দেন।
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিজের চিকিৎসক-পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আরও অনেকেই জড়িত ছিলেন বলে শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছেন রত্না দেবনাথ। এই মামলার সন্দেহভাজন প্রত্যেকের নাম তদন্তের আওতায় আনার জন্য এদিন তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে একটি মুখবন্ধ খামে চিঠি জমা দিয়ে আবেদন জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, বিধায়ক হলেও তাঁর জীবন থেকে সমস্ত আনন্দ হারিয়ে গিয়েছে এবং তাঁর একমাত্র লক্ষ্য হলো মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত ন্যায়বিচার পাওয়া। যে সমস্ত অভিযুক্তদের নাম তিনি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন, সেগুলির কথা তিনি আগেও তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে আরজি কর কাণ্ডের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নতুন সরকার। ঘটনার সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত তিন আইপিএস অফিসার বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়ে তাঁদের সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে ওই ঘটনার সময়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার ঠিক কী ভূমিকা ছিল, তাও খুব দ্রুত সামনে আনা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আরজি করের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি স্তরেও নতুন তৎপরতা শুরু হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ এই ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সিবিআই-কে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তের পরিধি আরও বৃদ্ধি করতে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ২৫ জুনের মধ্যে এই বিশেষ দলকে আদালতে তাদের সম্পূর্ণ তদন্তের রিপোর্ট জমা দিতে হবে। রাজ্যে ক্ষমতার এই পালাবদলের আবহে আরজি কর কাণ্ডের তদন্ত ও নির্যাতিতার মায়ের নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠক রাজ্য রাজনীতিতে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় তৈরি করল।





