নতুন মন্ত্রিসভায় কারা পাচ্ছেন জায়গা? আজ দিল্লিতে মোদি-শুভেন্দু বৈঠকেই চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা
আজ মোদির মুখোমুখি হয়ে কোন মেগা প্যাকেজ আনছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?
Truth of Bengal: শুক্রবার সকাল থেকেই দিল্লির রাজনৈতিক তাপমাত্রা পারদ ছুঁয়েছে। আজ দিনভর রাজধানীতে ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর। সকালে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপ-রাষ্ট্রপতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং ও নীতিন নবীনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। তবে দুপুরের পর সবচেয়ে প্রতীক্ষিত বৈঠকটি হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, বিগত সরকারের জমানায় বিপুল ঋণের বোঝায় কার্যত দেউলিয়া হওয়ার মুখে রাজ্য। কোষাগারের আয়ের একটা সিংহভাগ টাকাই চলে যাচ্ছে পুরনো ঋণের সুদ মেটাতে। এই শ্বাসরোধকারী পরিস্থিতি থেকে রাজ্যকে টেনে তুলতে এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের গতি ফেরাতে কেন্দ্রের বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ছাড়া আর কোনও গতি নেই। তাই ‘ডবল ইঞ্জিন’ তত্ত্বের আসল সুফল বাংলার মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিতেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক রূপরেখা জমা দিতে পারেন শুভেন্দু।
“আমাদের সরকার খেলা-মেলার সরকার হবে না”
এদিকে বাংলার জন্য কেন্দ্রের এই মহা আর্থিক প্যাকেজের জোরালো ইঙ্গিত মিলেছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথাতেও। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শমীক সরাসরি খোলসা না করলেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেন, “দলগতভাবে আমরা কেন্দ্রের থেকে কী আদায় করব, তা সংবাদমাধ্যমের সামনে ঢাক পিটিয়ে বলব না। তবে এটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমাদের সরকার শুধু ঘোষণার সরকার হবে না, আর পূর্বতন সরকারের মতো খেলা-মেলার সরকারও হবে না।”
উত্তরবঙ্গের চা-বাগানে বইবে উন্নয়নের হাওয়া
শুধু আর্থিক প্যাকেজই নয়, উত্তরবঙ্গের ধুঁকতে থাকা চা-বাগান শ্রমিকদের নিয়েও বড় বার্তা দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। প্রতিবেশী রাজ্য অসমে চা শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্র যে সমস্ত জনকল্যাণমুখী প্রকল্প চালু রেখেছে, তা এবার দ্রুত বাংলাতেও লাগু করার ইঙ্গিত দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “চা বাগানের গরিব শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর যে কাজ আগের সরকার দীর্ঘ বছর ধরে করেনি, সেই কাজ এবার আমাদের সরকার করে দেখাবে।” তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেও তিনি জানান। সব মিলিয়ে, দিল্লির দরবারে শুভেন্দু-মোদি বৈঠক আজ কেবল সৌজন্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলার রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এক ঐতিহাসিক নতুন সমীকরণের সূচনা করতে চলেছে।





