ফোর্ট উইলিয়ামে সিবিআই-এর হানা! ৫০ লক্ষ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার সেনার কর্নেল!
৫০ লক্ষ টাকার বিপুল আর্থিক ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে সিবিআই
Truth of Bengal: কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে, যা বর্তমানে বিজয় দুর্গ নামে পরিচিত, কর্মরত ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক উচ্চপদস্থ অফিসারকে ৫০ লক্ষ টাকার বিপুল আর্থিক ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। ধৃত অফিসারের নাম হিমাংশু বালি, যিনি সেনা বাহিনীর কর্নেল পদমর্যাদার অধিকারী এবং ইস্টার্ন কমান্ডের আর্মি অর্ডন্যান্স কোরে কর্মরত ছিলেন। উল্লেখ্য, এই ফোর্ট উইলিয়াম বা বিজয় দুর্গই বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্ব ভারতের প্রধান সদর দফতর বা ইস্টার্ন কমান্ড হিসেবে পরিচিত।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিপুল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গত ১৮ মে একটি এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অভিযোগ উঠেছে, ফোর্ট উইলিয়ামের বিভিন্ন কাজের বরাত বা দরপত্র মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সংস্থাকে পাইয়ে দিতেন কর্নেল হিমাংশু বালি। শুধু দরপত্র পাইয়ে দেওয়াই নয়, উত্তরপ্রদেশের কানপুরের এক ব্যবসায়ী ও তাঁর সংস্থাকে অন্যায় সুবিধা দিতে নিম্নমানের উপকরণের নমুনা বা স্যাম্পলে সরকারি অনুমোদন এবং বকেয়াসহ অতিরিক্ত ভুয়ো বিলে ছাড় দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এই দুর্নীতি চক্রে জড়িত থাকার অপরাধে কানপুরের বাসিন্দা অক্ষত অগ্রবাল এবং তাঁর সংস্থা ইস্টার্ন গ্লোবাল লিমিটেডের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। সিবিআইয়ের এফআইআর অনুযায়ী, অক্ষত এবং তাঁর বাবা ময়াঙ্ক অগ্রবাল নিজেদের সংস্থার ব্যবসায়িক ফায়দা লুটতে এবং বেআইনিভাবে সরকারি ছাড় পেতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন কর্নেল হিমাংশুর সঙ্গে। তদন্তে প্রকাশ, কলকাতার ইস্টার্ন কমান্ডের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের দরপত্র বা টেন্ডার পেতে হিমাংশুসহ সেনাবাহিনীর আরও কয়েকজনকে বড় অঙ্কের টাকা ঘুষ দিয়েছিল অক্ষতের সংস্থা। গত মার্চ-এপ্রিল মাস নাগাদ একটি নির্দিষ্ট টেন্ডার পাওয়ার উদ্দেশ্যে হিমাংশুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন অক্ষত এবং গত ২২ এপ্রিল পার্ক স্ট্রিটের একটি জায়গায় দুপক্ষের মধ্যে এই নিয়ে বৈঠকও হয়। এর ঠিক দুদিন পরই অক্ষতের সংস্থা সেই কাজের সরকারি বরাত পেয়ে যায়।
তদন্তকারী আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, গত সোমবার হাওয়ালার মাধ্যমে ঘুষের বিপুল পরিমাণ টাকা দিল্লির এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন অক্ষত, যিনি কর্নেল হিমাংশুর অত্যন্ত পরিচিত। সিবিআইয়ের দাবি, কেবল একটি নয়, বরং একের পর এক একাধিক কাজের বরাত পাইয়ে দেওয়ার জন্য অক্ষতের সংস্থার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করেছিলেন হিমাংশু। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অনুমান, এই চক্রে ধৃত কর্নেল ছাড়াও সেনাবাহিনীর আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক যুক্ত থাকতে পারেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তাঁদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। আপাতত ধৃত সেনা অফিসারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, লেনদেনের খতিয়ান এবং কল রেকর্ড গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে সিবিআই।






