“চাপের কাছে নতিস্বীকার!”, জাহাঙ্গিরের পলায়নকে ‘ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত’ বলে দায় ঝাড়ল তৃণমূল
তড়িঘড়ি প্রেস রিলিজ জারি করে ড্যামেজ কন্ট্রোল! জাহাঙ্গিরের পলায়নের পর কী সাফাই দিল তৃণমূল?
Truth of Bengal: ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনেই মুখ পুড়ল বিদায়ী শাসকদলের। যে জাহাঙ্গির খান এতদিন এলাকায় বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খাওয়াতেন, তিনি মঙ্গলবার আচমকাই সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমাকে বিশেষ প্যাকেজ দিয়েছেন, আমি আর ভোটের লড়াইয়ে নেই।” এই ঘটনার পরই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে যায়। দলের প্রার্থীর এমন আকস্মিক ‘পালিয়ে যাওয়া’র পর ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে বাধ্য হয় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
তৃণমূলের অফিশিয়াল বিবৃতিতে চরম ক্ষোভ
জাহাঙ্গীরের এই ডিগবাজির পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি সরকারি বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “ফলতার পুনর্নির্বাচন থেকে জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত। দল এই সিদ্ধান্ত নেয়নি। আসলে গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে শুধু ফলতা আসনেই তৃণমূলের শতাধিক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে নতুন সরকারের পুলিশ। দিনের আলোয় ভয় দেখিয়ে দলের বেশ কয়েকটি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং জোর করে দখল করা হয়েছে। অথচ বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন দেখেও না দেখার ভান করছে।”
দল আরও দাবি করেছে, “বিজেপি যে ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে তার বিরুদ্ধে কর্মীরা প্রতিরোধ চালাচ্ছেন। তবে, শেষ পর্যন্ত কেউ কেউ চাপের কাছে নতি স্বীকার করে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলা বিরোধী বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই পশ্চিমবঙ্গ এবং দিল্লি দুই জায়গাতেই চলবে।”
“পুষ্পা কেন ভয় পেল দল দেখবে”, কুণাল ঘোষ
মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা অনেকদিন আগেই পেরিয়ে যাওয়ায় আগামী ২১ মে ইভিএম (EVM) মেশিনে জাহাঙ্গিরের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক দুটোই থাকবে। কিন্তু সশরীরে প্রার্থী প্রচার থেকে বসে যাওয়ায় তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরা এখন দিশেহারা। এই বিষয়ে দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “পুষ্পা ভয় কেন পেল, তা খতিয়ে দেখবে দল। নিশ্চয়ই এলাকায় একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের ঠিক দু-দিন আগে অভিষেকের অন্যতম ঘনিষ্ঠ নেতার এই আত্মসমর্পণ ডায়মন্ড হারবার লোকসভার রাজনৈতিক সমীকরণকেও ওলটপালট করে দিল।






