কলকাতা

অভয়া কাণ্ডে বড় নির্দেশ হাই কোর্টের, আর জি করের একাধিক জায়গা সিল করবে সিবিআই

জবাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধুমাত্র সেমিনার হল সিল করা হয়েছিল।

Truth of Bengal: আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার হল আগেই সিল করেছিলেন তদন্তকারীরা। এবার অভয়া কাণ্ডে প্রমাণ সংরক্ষণ এবং তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আরও কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালত সিবিআইকে স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধুমাত্র সেমিনার হল নয়, হাসপাতালের যে যে অংশের সঙ্গে এই ঘটনার সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে, সেগুলি অবিলম্বে সিল করতে হবে। মঙ্গলবার বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানির শুরুতেই আদালত সিবিআই-এর কাছে জানতে চায়, তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর হাসপাতালের কোন কোন জায়গা সিল করা হয়েছিল। জবাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধুমাত্র সেমিনার হল সিল করা হয়েছিল।

সিবিআই-এর এই উত্তরে অসন্তোষ প্রকাশ করে পাল্টা প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতিরা জানতে চান, সেমিনার হল ছাড়া অন্য কোনও জায়গা সিল করার প্রয়োজনীয়তা কেন দেখা হয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল মামলায় সম্ভাব্য সব প্রমাণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা তদন্তের অন্যতম প্রধান শর্ত। অভয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করা হচ্ছিল, সেমিনার হলের পাশের একটি ঘরকে ঘিরে তাঁদের সন্দেহ রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ওই ঘরের সঙ্গে ঘটনার যোগ থাকতে পারে। একই সঙ্গে হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের চেম্বারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই সমস্ত দিক বিবেচনা করেই এদিন আদালত সিবিআইকে নির্দেশ দেয়, সন্দীপ ঘোষের চেম্বার-সহ হাসপাতালের সমস্ত সন্দেহজনক ও সংশ্লিষ্ট অংশ সিল করতে হবে।

আদালতের এই নির্দেশের পর অভয়া কাণ্ডের তদন্ত নতুন করে গতি পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার। তার আগে সিবিআই কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই এখন নজর সকলের। অন্যদিকে, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অভয়া কাণ্ডের ফাইল নতুন করে খোলার সিদ্ধান্ত এই মামলাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী এই তদন্তে একাধিক কড়া পদক্ষেপ করেছেন। কলকাতা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা তিন আইপিএস অফিসারকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে।

নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঘটনার সময় সাসপেন্ড হওয়া ওই পুলিশ আধিকারিকরা কার নির্দেশে কাজ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। তড়িঘড়ি সাংবাদিক বৈঠক করার নির্দেশ কোথা থেকে এসেছিল, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর দফতর নাকি অন্য কোনও মন্ত্রীর কাছ থেকে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের কল রেকর্ডস, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং যোগাযোগের সমস্ত তথ্য পরীক্ষা করা হবে। ঘটনার পর সাধারণ মানুষকে ভুল তথ্য দেওয়া এবং নির্যাতিতার পরিবারকে টাকা দিয়ে চুপ করানোর চেষ্টার যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল, সেই অভিযোগগুলিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে অভয়া কাণ্ডে আদালতের নতুন নির্দেশ এবং সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে তদন্তের মোড় ঘুরতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও আইনজীবী মহলের একাংশ। এখন সিবিআই-এর পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বৃহস্পতিবারের শুনানিই এই মামলার ভবিষ্যৎ দিশা নির্ধারণ করতে পারে।

Related Articles