সায়নী ঘোষের মাথা কাটলেই ১ কোটি! তৃণমূল সাংসদকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য বিজেপি নেতার, ভাইরাল ভিডিও
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুহু করে ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে
Truth of Bengal: তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের মাথা কাটলে এক কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে, এমন একটি বিস্ফোরক ভিডিও ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সিকন্দরাবাদ নগরপালিকার চেয়ারম্যান প্রদীপ দীক্ষিতকে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুহু করে ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মুখ থেকে এই ধরনের মন্তব্য কীভাবে এল, তা নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত বেশ কয়েক বছর আগে। ২০১৫ সালে সায়নী ঘোষের এক্স (তদানীন্তন টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে ভগবান শিবের বিরুদ্ধে একটি অবমাননাকর ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করা হয়। যদিও অভিনেত্রী তথা বর্তমান সাংসদের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে যে, সেই সময় তাঁর এক্স হ্যান্ডেলটি হ্যাক করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এই ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে বারবার রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে যাদবপুরের এই তৃণমূল সাংসদকে। ঘটনার প্রায় ছয় বছর পর, ২০২১ সালে এই পোস্টটি নিয়ে সায়নীর বিরুদ্ধে পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেতা তথাগত রায়। এমনকী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যখন যাদবপুর কেন্দ্র থেকে সায়নীকে প্রার্থী করা হয়, তখনও এই পুরনো বিতর্ককে টেনে এনে তাঁকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছিল বিরোধী শিবির।
বহু বছরের পুরনো সেই বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করেই গত রবিবার উত্তরপ্রদেশের সিকন্দারাবাদে হিন্দু সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভায় উপস্থিত বক্তারা দাবি করেন, সায়নী ঘোষের ওই পুরনো মন্তব্য তাঁদের ধর্মীয় ভাবাবেগে গভীর আঘাত করেছে। সেই প্রতিবাদ সভা থেকেই সিকন্দরাবাদ নগরপালিকার চেয়ারম্যান প্রদীপ দীক্ষিতের একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে আসে। ভিডিওতে তাঁকে অত্যন্ত কড়া সুরে বলতে শোনা যায় যে, সায়নী ঘোষের কাটা মাথা যে ব্যক্তি তাঁর সামনে এনে হাজির করতে পারবে, তাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এক কোটি টাকা পুরস্কার দেবেন।
এই চরম আপত্তিকর এবং বিতর্কিত ভিডিওটি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে যায়। তবে ভিডিওর সত্যতা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রদীপ দীক্ষিত। তাঁর দাবি, তিনি ওই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রেখেছিলেন ঠিকই, কিন্তু মাথা কাটার মতো কোনও হিংসাত্মক বা আপত্তিকর মন্তব্য তিনি করেননি। তাঁর অভিযোগ, কিছু দুষ্কৃতী আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর কণ্ঠস্বর ও ভিডিও বিকৃত করেছে এবং সমাজমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দিয়ে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। উত্তরপ্রদেশের এই প্রতিবাদ সভা এবং বিজেপি নেতার ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হলেও, এই গোটা ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সায়নী ঘোষ বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ভিডিওটি সত্যিই এআই দিয়ে তৈরি নাকি এর পেছনে অন্য কোনও সত্যতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।





