কলকাতা

বিতর্কের কেন্দ্রে কলকাতার জোড়া বাড়ি, শুভেন্দুর হুঙ্কারের পরই অভিষেককে নোটিস পুরসভার

৩ দিন ধরে অ্যাসেসমেন্টের পর অভিষেকের দুই মেগা বাড়ির স্যাঙ্কশন প্ল্যান তলব

Truth of Bengal: দক্ষিণ কলকাতার রাজনীতির ভরকেন্দ্র হরিশ মুখার্জি রোড এবং কালীঘাট রোডের দুটি বহুতল নিয়ে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল কলকাতা পুরসভা। সোমবার রাতে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দুই বাসভবনের যাবতীয় নথি ও স্যাঙ্কশন প্ল্যান অবিলম্বে পুরভবনে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সম্প্রতি ডায়মন্ড হারবারের সভা এবং সোমবার সন্ধ্যায় ক্যামাক স্ট্রিটের ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে ‘হিসেব নেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, এটি তারই প্রথম প্রতিফলন।

লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের সম্পত্তির খাঁচায় টান?

পুরসভা সূত্রে খবর, বিগত তিন দিন ধরে গোপনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দুটি বাড়ির অ্যাসেসমেন্ট বা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চালাচ্ছিলেন কেএমসি-র আধিকারিকরা। নথিতে দেখা গিয়েছে, কালীঘাট রোডের একটি বাড়ি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত। পুরসভার নোটিসে স্পষ্ট জানতে চাওয়া হয়েছে, নিয়ম মেনেই কি এই দুই বহুতল তৈরি হয়েছে? যদি মূল নকশার বাইরে গিয়ে বাড়তি কোনও নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তবে তার জন্য কি পুরসভার আগাম অনুমতি নেওয়া হয়েছিল? সমস্ত অনুমোদিত প্ল্যান ও লিগ্যাল পেপার্স জমা দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

ভিআইপি নিরাপত্তায় কোপ, খোলা হল রাস্তা

নবান্নে বিজেপি সরকার গঠন এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পর থেকেই অভিষেকের ‘দুর্গ’ ভাঙার কাজ শুরু হয়েছিল। প্রথমে দক্ষিণ কলকাতায় তাঁর ‘শান্তিকুঞ্জ’ বাসভবনের সামনে থেকে বিশাল পুলিশি কর্ডন ও ব্যারিকেড সরিয়ে নেয় কলকাতা পুলিশ, যাতে ওই রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষ ও যানচলাচল স্বাভাবিক হতে পারে।

তৃণমূল জমানায় একজন সাধারণ সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও অভিষেক যে প্রভূত ও রাজকীয় জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেতেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিল বিরোধী শিবির। ক্ষমতার অলিন্দ বদলে যেতেই সেই বাড়তি নিরাপত্তা এক ঝটকায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে একজন সাধারণ সাংসদ হিসেবে আইন মোতাবেক যতটুকু প্রোটোকল পাওয়ার কথা, ঠিক ততটুকুই পাচ্ছেন অভিষেক। এই নোটিস ও নিরাপত্তার খাঁড়া নেমে আসার পর তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর যে চাপ বহুলাংশে বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।

Related Articles