“আমি ভেঙে পড়িনি, তাহলে আপনারা কেন?”, ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে নেতাদের চাঙ্গা করলেন মমতা
ডবল ইঞ্জিন সরকারের জমানায় দলবদল রুখতে কালীঘাটে ঝাঁঝালো মমতা
Truth of Bengal: নবান্ন হাতছাড়া হলেও গ্রামীণ বাংলার ২০টি জেলা পরিষদের রাশ এখনও রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতেই। কিন্তু কেন্দ্রে ও রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠা হতেই গ্রামোন্নয়নের ফান্ড আটকে যাওয়া এবং নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দেওয়ার আশঙ্কায় কাঁপছিলেন জেলা স্তরের তৃণমূল নেতারা। এই দোলাচলের মাঝেই রবিবার কালীঘাটের কার্যালয়ে দক্ষিণবঙ্গের জেলা পরিষদ নেতৃত্বকে ডেকে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
“নির্বাচিত বোর্ড কেউ ভাঙতে পারে না”
বৈঠকে জেলা পরিষদ নেতৃত্বকে আশ্বস্ত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, “আইনিভাবে কোনও নির্বাচিত জেলা পরিষদ বোর্ডকে জোর করে কোনও সরকার ভেঙে দিতে পারে না। তাই ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নেই।” তবে ২০২৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনকে মাথায় রেখে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, সড়ক নির্মাণ, বাড়ি বাড়ি পানীয় জল সরবরাহ বা আবাসের মতো যে কাজগুলি জেলা পরিষদের মাধ্যমে হয়, সেগুলির পরিষেবা যেন কোনওভাবে থমকে না যায়। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের অভাব-অভিযোগ শুনে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
নিজের চোট দেখিয়ে কর্মীদের তাতালেন নেত্রী
ভোটে হারের পর কর্মীদের একাংশের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে নিজের রাজনৈতিক জীবনের লড়াইকে ঢাল করেন মমতা। নিজের হাতের পুরনো চোটের দাগ দেখিয়ে তিনি বলেন, “বাম আমলে আমি অনেক মার খেয়েছি। গণনার দিনেও আমাকে মারা হয়েছিল, আমি হেরেও গিয়েছিলাম। আমি যদি ভেঙে না পড়ি, তবে আপনারা কেন ভেঙে পড়ছেন? দল আবার ঘুরে দাঁড়াবে।” রাজ্যে জায়গায় জায়গায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও কর্মীদের ঘরছাড়া করার যে অভিযোগ উঠছে, তার জবাবে নেত্রী বলেন, “যেখানে পার্টি অফিস ভেঙেছে, সেখানে নতুন করে অফিস করুন। প্রয়োজনে আমি নিজে গিয়ে দু-এক জায়গায় পার্টি অফিস রং করব।”
দলবদলু ও আইনি সহযোগিতার বার্তা
এদিনের বৈঠক থেকে দলবদলুদের কড়া বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, “অনেকেই তলে তলে এখন বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে খবর পাচ্ছি। যাঁদের তেমন ইচ্ছে রয়েছে, দল ছেড়ে এখনই চলে যেতে পারেন।” অন্যদিকে, কর্মীদের নামে হওয়া মিথ্যা মামলার মোকাবিলা করতে দলের তরফে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আইনি সেল সামলাবেন বলে জানানো হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এক সময় লোকসভায় ১টি আসন থেকে ৩৪টি আসন এবং বিধানসভায় ৩৫ থেকে ২০০ পার করার ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে নেতাদের নতুন করে মাঠে নামার ডাক দেন।






