কলকাতা

এবার সরাসরি টিভির পর্দায় বা মোবাইলেই দেখা যাবে বিধানসভার লাইভ স্ট্রিমিং, বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে সবটাই আমজনতার নজরদারিতে থাকবে

Truth of Bengal: ভারতের লোকসভা এবং রাজ্যসভার দীর্ঘদিনের চেনা মডেলের অনুকরণে এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও আসতে চলেছে এক যুগান্তকারী বদল। এখন থেকে বিধানসভা অধিবেশনের প্রতিটি মুহূর্তের কাজকর্ম সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভ স্ট্রিমিং করা হবে। অষ্টাদশ বিধানসভায় নতুন স্পিকার হিসেবে রথীন্দ্রনাথ বসু নির্বাচিত হওয়ার পরেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার বিধানসভার কক্ষে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, বিধানসভায় শাসক কিংবা বিরোধী—সব পক্ষই আসলে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন। তাই বিধানসভার ভেতরে সরকারের কাজ কী এবং বিরোধীরাই বা কী ভূমিকা পালন করছে, তা সরাসরি জানার পূর্ণ অধিকার রাজ্যের সাধারণ মানুষের রয়েছে। এখানে গোপন রাখার মতো কিছুই নেই, লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে সবটাই আমজনতার নজরদারিতে থাকবে।

আইনসভা সূত্রে জানা গেছে, পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের জমানাতেও বিধানসভার অধিবেশন সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা চালু ছিল। তবে তা প্রতিদিন করা হতো না। মূলত বাজেট পেশ বা মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘ ভাষণের মতো বিশেষ কিছু নির্দিষ্ট দিনেই কেবল সেই সম্প্রচার সীমাবদ্ধ থাকত। তবে বর্তমান নতুন সরকারের আমলে নিয়মে বদল এনে অধিবেশনের প্রতিটি কার্যদিবসেই সম্পূর্ণ লাইভ সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই স্বচ্ছ ও ইতিবাচক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে পরবর্তীতে নিজের বক্তব্য পেশ করার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।

এর আগে, শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু। বিরোধী শিবির কোনো প্রার্থী না দেওয়ায় সম্পূর্ণ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন। সংসদীয় ঐতিহ্য মেনে এরপর মুখ্যমন্ত্রী তথা শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় যৌথভাবে রথীন্দ্রনাথ বসুকে স্পিকারের মূল কুর্সি পর্যন্ত এগিয়ে দেন। এই বিশেষ মুহূর্তে নতুন স্পিকারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান বিদায়ী স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

আসন গ্রহণের পর নতুন স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে নিজের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ঘোষণার পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষার বার্তা দেন। আগের জমানার নানা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিধানসভা কোনো মারামারি বা অশান্তির জায়গা নয়। এখানে সব পক্ষের তরফ থেকে গঠনমূলক বিরোধিতা কাম্য। বিরোধী কণ্ঠকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে সংবিধানের মূল মন্ত্র মেনে তিনি মনে করিয়ে দেন, বিধানসভার কক্ষটি আসলে বিরোধীদের কথা বলার জায়গা।

Related Articles