জেলে বসেই দুর্নীতির সাম্রাজ্য! সাসপেন্ড প্রেসিডেন্সির সুপার ও চিফ কন্ট্রোলার! সিআইডি তদন্তের নির্দেশ শুভেন্দুর
কর্তব্যে গাফিলতি ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার এন কুজুর এবং চিফ কন্ট্রোলার দীপ্ত ঘরাইকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করা হয়েছে
Truth of Bengal: রাজ্যের সংশোধনাগারগুলির ভেতরে বসে অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক চালানোর এক বিস্ফোরক চক্রের হদিশ মিলল প্রেসিডেন্সি জেলে। পূর্বতন শাসক শিবিরের পরোক্ষ মদত বা উদাসীনতাকে কাজে লাগিয়ে জেলের ভেতরে বসেই স্মার্টফোন ব্যবহারের মাধ্যমে এই দুর্নীতি চালানো হচ্ছিল বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পরেই প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের দীর্ঘদিনের ঘুঘুর বাসা ভাঙতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই সেখানে আচমকা অভিযান চালিয়ে একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। কর্তব্যে গাফিলতি ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার এন কুজুর এবং চিফ কন্ট্রোলার দীপ্ত ঘরাইকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই গোটা চক্রের শিকড় খুঁজতে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিধানসভার অধিবেশন শেষ করে সোজা নবান্নে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের ভেতরে বন্দিরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য আসছিল। এই অন্যায়ের পেছনে আগের সরকারের হয়তো রাজনৈতিক সহযোগিতা ছিল অথবা তাদের চরম গাফিলতি কাজ করেছে। এই অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তিনি রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলকে বিষয়টি জানান এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলে। এর পরেই কলকাতা পুলিশের ডিসি সাউথ এবং কারেকশনাল হোমের ডিজির যৌথ নেতৃত্বে জেলে বিশেষ অভিযান চালানো হয় এবং সেখান থেকে বেশ কিছু মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই জঘন্য অপরাধের বিষয়টি তাঁরা সাধারণ মানুষের সামনে আনতে চান কারণ পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সহযোগিতায় রাজ্যের কুখ্যাত অপরাধীরা জেলের ভেতরে বসেই তাদের অপরাধের সাম্রাজ্য ও নেটওয়ার্ক সচল রেখেছিল। তাঁর মতে, এই অনৈতিক প্রথা একদিনে তৈরি হয়নি, বছরের পর বছর ধরে নিচুতলা থেকে উপরতলা পর্যন্ত এক গভীর দুর্নীতির আঁতাত গড়ে উঠেছিল। এই শিকড় উপড়ে ফেলতে কিছুটা সময় লাগলেও সরকার কোনো আপস করবে না। যারা এই ধরণের অপরাধের সাথে যুক্ত, তাদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন যে আজ থেকেই এই সমস্ত বেআইনি কাজ বন্ধ করতে হবে।
নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, শুধু প্রেসিডেন্সি নয়, দমদম থেকে শুরু করে বহরমপুর পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক সংশোধনাগারে এই ধরণের বেআইনি কার্যকলাপ চলছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে সন্দেশখালির শাহজাহানের মতো হাইপ্রোফাইল বন্দিদের, যারা জেলে বসে নেটওয়ার্ক চালাচ্ছে, তাদের অবিলম্বে আলাদা সেলে সরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। জেলের আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তাঁদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা যেন তাঁরা সঠিকভাবে পালন করেন। কর্তব্যে অবহেলা দেখা গেলে শুধু অপরাধী নয়, অপরাধে মদত দেওয়া আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও সমভাবে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলের ভেতরে কার নামে এই সিম কার্ডগুলি তোলা হয়েছিল এবং কীভাবে মোবাইল ফোনগুলি ভেতরে পৌঁছাল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিআইডি-কে।





