সরকারি অফিসে আর চলবে না ফাঁকি! ডিউটির সময় নিয়ে জারি নির্দেশিকা
এখন থেকে প্রত্যেক সরকারি কর্মীকে ঘড়ি ধরে ডিউটি করতে হবে
Truth of Bengal: রাজ্য প্রশাসনে নতুন জমানার শুরুতেই সরকারি দপ্তরের কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার রাইটার্স বিল্ডিংয়ের তরফ থেকে রাজ্য সরকারের ডেপুটি সেক্রেটারি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছেন। এই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে প্রত্যেক সরকারি কর্মীকে ঘড়ি ধরে ডিউটি করতে হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রত্যেক কর্মীকে নিজ নিজ বিভাগীয় দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে এবং বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে অফিস চত্বর ত্যাগ করা যাবে না।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকারি কাজ যাতে আরও গতিশীল ও মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্যই এই সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তরে কাজের যে চাপ রয়েছে, তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতেই এই কড়াকড়ি। গত কয়েক দশকে রাজ্যের সরকারি দপ্তরগুলোর কাজের ধরন নিয়ে নানা চড়াই-উতরাই দেখা গিয়েছে। বাম আমলে যেখানে অফিসের ঢিলেঢালা ভাব নিয়ে আমজনতার মধ্যে ক্ষোভ ছিল, তৃণমূল জমানায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নজরদারিতে সেই লাল ফিতের ফাঁস অনেকটাই আলগা হয়েছিল। যদিও সেই সময় সরকারি কর্মীদের অতিরিক্ত ছুটি পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কম সমালোচনা হয়নি।

নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবার সেই চেনা ছক সম্পূর্ণ বদলে দিতে চাইছে। আগের জমানায় অনেক ক্ষেত্রেই কর্মীদের মাঝে বিরতির সময়ে বেরিয়ে যাওয়ার বা দেরিতে অফিসে আসার প্রবণতা দেখা যেত। কিন্তু এখন থেকে অফিসের পুরো সময়টাই নিজের দপ্তরে কাটাতে হবে কর্মীদের। রাইটার্সের এই বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে মহাকরণ ও সংলগ্ন সরকারি অফিসগুলোতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সরকারি পরিষেবাকে আমজনতার কাছে আরও দায়বদ্ধ করতেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।
বাম জমানায় দেরিতে আসা ও তাড়াতাড়ি চলে যাওয়ার যে চিরাচরিত অভ্যাস ছিল, তৃণমূল সরকার তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। তবে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার এবার সেই কর্মসংস্কৃতিকে এক প্রকার নিয়মের কঠোর শৃঙ্খলে বাঁধতে চাইছে। সরকারের এই নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে জনপরিষেবার কাজে বিন্দুমাত্র গাফিলতি না থাকে। এখন দেখার, সরকারের এই কড়া দাওয়াইয়ের ফলে আগামী দিনে সরকারি দপ্তরগুলোর কাজের মানে কতটা পরিবর্তন আসে।






