বিজেপি প্রার্থীকে নিগ্রহের জের! সাসপেন্ড বারুইপুর থানার IC ও SI, শুরু বিভাগীয় তদন্ত
ভিডিও ভাইরাল হতেই নবান্নের ‘অ্যাকশন’! বারুইপুরের আইসি ও এসআই-এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ
Truth of Bengal: ফলপ্রকাশের পর বিজেপি প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছিল বারুইপুর। এবার সেই ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই জারি হল কড়া শাস্তির নির্দেশ। বারুইপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পালকে নিগ্রহের অভিযোগে সাসপেন্ড করা হল বারুইপুর থানার আইসি (IC) সমর দে এবং সাব-ইনস্পেক্টর (SI) সুকুমার রুইদাসকে। রাজ্য পুলিশের তরফে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে এবং আইসি-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের আদেশও দেওয়া হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিও ও অভিযোগের সূত্রপাত
গত ৫ মে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরদিন বারুইপুর পশ্চিমে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুরের অভিযোগ তোলা হয়। সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যান বারুইপুর থানার আইসি সমর দে ও তাঁর দলবল। বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পালের অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে রাস্তায় দেখতে পেয়েই বিনা প্ররোচনায় মারধর শুরু করে এবং জোরপূর্বক গাড়িতে তোলে। ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয় (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম), যেখানে পুলিশ কর্মীদের সক্রিয়ভাবে প্রার্থীকে নিগ্রহ করতে দেখা গিয়েছিল।
মিথ্যা মামলার অভিযোগ ও তদন্ত
বিজেপি নেতা বিশ্বজিৎ পালের দাবি, মারধরের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলাও সাজিয়েছিল পুলিশ। এই ঘটনার পরই স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের তরফে পুলিশের এই ‘দলদাসের’ মতো আচরণের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। রাজ্য পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রাথমিকভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় এই দুই পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শাস্তির মুখে উর্দিধারীরা
রাজ্য পুলিশের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বারুইপুর থানার আইসি সমর দে-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এবং সাব-ইনস্পেক্টর সুকুমার রুইদাস ডিউটি থেকে বিরত থাকবেন। পুলিশের এই কড়া পদক্ষেপে বারুইপুর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসন বার্তা দিতে চাইল যে উর্দির আড়ালে আইন হাতে তুলে নিলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। অন্যদিকে, বিজেপি এই সিদ্ধান্তকে তাদের নৈতিক জয় হিসেবে দেখছে।





