রাজ্যের খবর

“মানুষের ভরসা যেন না ভাঙে”, বিপুল জনাদেশেও নেতাদের দায়িত্ব মনে করালেন শাহ

গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর এবার বিজেপির! শ্যামাপ্রসাদের জন্মভূমিতে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা অমিত শাহের

Truth of Bengal: ছাব্বিশের নির্বাচনে বঙ্গ জয়ের পর প্রথমবার কলকাতায় পা রেখেই মেজাজে ধরা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করার পাশাপাশি তৃণমূলের দুর্গ ধ্বংসের উল্লাসে মাতলেন তিনি। শাহ সাফ জানালেন, “এর আগে নন্দীগ্রামে দিদিকে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু, কিন্তু এ বার দিদিকে দিদির এলাকা অর্থাৎ ভবানীপুরেই হারিয়ে দিয়েছে আমাদের লড়াকু নেতা।”

৯ জেলায় ‘শূন্য’ তৃণমূল: ঐতিহাসিক জনাদেশ

২০১৪-তে শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে যে খাতা খোলা হয়েছিল, ২০২৬-এ তা ২০৭ আসনে পৌঁছেছে। শাহের দাবি, বাংলার ন’টি জেলায় তৃণমূল এবার খাতা খুলতে পারেনি। জয়ী প্রার্থীদের গড় ব্যবধান প্রায় ২৮ হাজার! শাহের কথায়, “এত বড় জনাদেশ আমি আগে দেখিনি। স্বাধীনতার পর এই প্রথম বাংলায় ৯৩ শতাংশ ভোট পড়ল অথচ কোনও মৃত্যু নেই, কোনও ছাপ্পা নেই।” এই কৃতিত্বের জন্য তিনি নির্বাচন কমিশন ও পুলিশকে অভিনন্দন জানান।

আরজি কর থেকে সন্দেশখালি: জয়ের কারিগর সাধারণ মানুষ

এদিন ভাষণে বিশেষ কয়েকজন জয়ী প্রার্থীর নাম আলাদা করে উল্লেখ করেন অমিত শাহ। পানিহাটিতে আরজি কর নির্যাতিতার মা, আউশগ্রামের গৃহ পরিচারিকা কলিতা মাঝি এবং সন্দেশখালির রেখা পাত্রর জয়কে তিনি ‘অশুভ শক্তির বিনাশ’ বলে ব্যাখ্যা করেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্য সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জয়কেও ‘বন্দে মাতরমের ১৫০ বছরে এক বড় প্রাপ্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন শাহ।

৩২১ শহিদ ও শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্ন

জয়ের আনন্দে মেতে উঠলেও লড়াইয়ের ময়দানে প্রাণ হারানো ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর কথা ভুলছেন না শাহ। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “কেরল আর পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া দেশের কোথাও এমন হিংসা দেখিনি। কিন্তু আজ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা যেখানেই থাকুক, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এই সরকারকে প্রাণভরে আশীর্বাদ করবেন।”

কংগ্রেসকে তুলোধনা ও আগামীর লক্ষ্য

কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শাহ বলেন, “জেতা অসম্ভব বুঝে ওরা ভোটপ্রক্রিয়াকেই কলুষিত করছে।” পরিশেষে নেতাদের উদ্দেশে তাঁর কড়া বার্তা, মানুষের এই বিপুল ভরসা যেন কখনও ভঙ্গ না হয়। অনুপ্রবেশকারীমুক্ত সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গ এবং শিল্পের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলাই এখন বিজেপির লক্ষ্য।

Related Articles