‘আমি নয় আমরা!’, ২০৭ আসনের রেকর্ড জয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বড় সঙ্কল্প শুভেন্দুর
ভয় কাটিয়ে এবার ভরসার পালা! সোনার বাংলা গড়তে একগুচ্ছ মাস্টারপ্ল্যান শুভেন্দুর
Truth of Bengal: বঙ্গে ইতিহাস গড়েছে পদ্ম শিবির। ২০১১ সালে তৃণমূলের এককভাবে পাওয়া আসন সংখ্যাকেও ছাপিয়ে এবার ২০৭টি আসন দখল করেছে বিজেপি। এই বিপুল জনাদেশ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণার পর প্রথম ভাষণেই চমক দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দম্ভ নয়, বরং বিনয় ও ঐক্যের সুর শোনা গেল তাঁর গলায়। মঞ্চে দাঁড়িয়েই তিনি ঘোষণা করলেন, “আমি নয়, আমরা নীতিতেই চলবে আগামীর বাংলা।”
রেকর্ড জয়: ২০১১-কেও হার মানাল বিজেপি
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে বিরোধী শিবির। ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি প্রমাণ করে দিয়েছে যে বাংলার মানুষ এবার প্রকৃত পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। শুভেন্দুর মতে, এই জয়ের কাণ্ডারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বাংলার মানুষের বুক থেকে ভয় কাটাতে পেরেছেন। আর সেই নির্ভীক মানুষগুলোই বুথে গিয়ে বিজেপিকে ভরসা জুগিয়েছেন।”
সঙ্কল্প পত্রই হবে ‘গীতা-কোরান-বাইবেল’
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে। তাঁর কথায়, “বিজেপির সঙ্কল্প পত্রে যা যা অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্যকর করা হবে। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার এবার একযোগে কাজ করে প্রধানমন্ত্রী মোদির স্বপ্ন পূরণ করবে।” তিনি আরও যোগ করেন, ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ মন্ত্রকে পাথেয় করেই তৈরি হবে ‘সোনার বাংলা’।
ঐক্যের বার্তা ও আগামীর পথ
ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, বরং দলগত সংহতিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলার হবু মুখ্যমন্ত্রী। শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে বুথ স্তরের কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আপনারা যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন, তা পালন করতে আমি বদ্ধপরিকর। তবে একা নয়, সকলকে পাশে নিয়েই এই পথ চলব।” তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “আগামী দিনে কথা কম হবে, কাজ হবে বেশি।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর এই ‘আমি নয় আমরা’ স্লোগান আদতে বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক বড়সড় বদলের ইঙ্গিত। এখন দেখার, এই নতুন সমীকরণ নিয়ে উন্নয়নের পথে বাংলাকে কতদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন ‘ভূমিপুত্র’ শুভেন্দু।






