ভুয়ো নম্বরপ্লেট, শিলিগুড়ির গাড়ি! শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক খুনে পুলিশের হাতে বড় সূত্র
মাঝরাস্তায় শ্যুটআউট! বাইক বাহিনীর গুলিতে ঝাঁঝরা শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী, নেপথ্যে কি গভীর ষড়যন্ত্র?
Truth of Bengal: রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে এবার বড়সড় মোড়। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় ঘটে যাওয়া এই নৃশংস শ্যুটআউটের তদন্তে নেমে একটি রহস্যময় চার চাকার গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, গাড়িটির নম্বরপ্লেট শিলিগুড়ির হলেও সেটি আসলে ভুয়ো বলেই প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে। গভীর রাতেই ডিজি মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে পৌঁছে চন্দ্রনাথের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দেন।
অপারেশন ‘দোহাড়িয়া’ ও ঘাতক বাহিনী
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাতে দোহাড়িয়া এলাকায় চন্দ্রনাথের গাড়ি লক্ষ্য করে আচমকা গুলি চালাতে শুরু করে একদল বাইক-আরোহী দুষ্কৃতী। বৃষ্টির মতো আসা গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান শুভেন্দুর এই বিশ্বস্ত সেনাপতি। চালকের শরীরেও গুলি লাগে, বর্তমানে তিনি কলকাতার একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু তাজা কার্তুজ ও ব্যবহৃত গুলির খোল উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের গতিবিধি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
বিক্ষোভে রণক্ষেত্র হাসপাতাল চত্বর
চন্দ্রনাথের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই মধ্যমগ্রামের হাসপাতাল চত্বর যেন আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়। রাত ১২টার পর একে একে শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার ও শমীক ভট্টাচার্যরা পৌঁছালে উত্তেজনা চরমে ওঠে। বিজেপি সমর্থকদের অভিযোগের তির সরাসরি মধ্যমগ্রামের সদ্য জয়ী তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষের দিকে। তাঁদের দাবি, এটি কোনও সাধারণ অপরাধ নয়, বরং অত্যন্ত পরিকল্পিত একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। রথীন ঘোষের গ্রেফতারির দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা।
তদন্তে ডিজি ও পুলিশের তৎপরতা
রাত ১টা নাগাদ ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হাসপাতালে পৌঁছান। সাংবাদিকদের তিনি জানান, “একটি চার চাকার গাড়ি আমরা বাজেয়াপ্ত করেছি। নম্বরপ্লেটটি সন্দেহজনক। তদন্তের স্বার্থে এখনই এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।” বর্তমানে চন্দ্রনাথের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বারাসত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানালেও, শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গীর এই রক্তক্ষয়ী মৃত্যু যে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ঝড়ের পূর্বাভাস, তা বলাই বাহুল্য।






