রাজ্যের খবর

বিদায় নিচ্ছে ‘বিশ্ববাংলা’! নবান্নে লোগো বদলের মহড়া, মমতার আঁকা ‘ব’ কি এবার অতীত?

১৫ বছরের জমানার অবসান! তৃণমূলের ‘ব’ লোগো কি এবার ফিরবে মমতার হাতেই?

Truth of Bengal: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গেই এবার প্রশাসনিক স্তরেও শুরু হতে চলেছে বড়সড় রদবদল। তৃণমূল জমানার অন্যতম প্রতীক ‘বিশ্ববাংলা’ লোগো এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের নাম বদল নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা। শনিবার ব্রিগেডে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণের আগেই নবান্নের প্রশাসনিক অলিন্দে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া।

মুখ্যসচিবের চিঠিতেই কি রহস্যের চাবিকাঠি?

তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনে স্কুলের পোশাক থেকে শুরু করে সচিবালয়ের প্যাড, সর্বত্রই দাপিয়ে বেড়িয়েছে নীল-সাদা রঙের ‘ব’ বা বিশ্ববাংলা লোগো। তবে সাম্প্রতিক এক প্রশাসনিক নির্দেশে সেই প্রথার বিচ্যুতি চোখে পড়েছে। মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা দফতরের সচিব ও পুলিশকর্তাদের সরকারি কাগজপত্র সংরক্ষণের যে নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন, সেখানে নাকি এই লোগোর ব্যবহার করা হয়নি। আর এর থেকেই জল্পনা তীব্র হয়েছে যে, সরকারি নথি থেকে বিদায় নিতে চলেছে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নকশা করা এই লোগো।

মমতার কাছেই কি ফিরে যাবে লোগো?

উল্লেখ্য, এই লোগোর স্বত্ব বা মালিকানা নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন এটি ব্যবহার করতে পারবে। সরকার লোগোটি ব্যবহার না করলে তার স্বত্ব ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কাছেই ফিরে যাবে। বর্তমানে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই লোগো আঁকড়ে থাকার কোনও কারণ নেই বলেই মনে করছেন আমলা মহলের একাংশ। ফলে লোগোটি যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার স্রষ্টার কাছেই ফিরে যাচ্ছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।

প্রকল্পের নাম ও কেন্দ্রীয় অনুদান

লোগো বদল তো কেবল শুরু, সূত্রের খবর, একাধিক রাজ্য সরকারি প্রকল্পের নাম নিয়েও শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। বিশেষ করে যে সব প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অনুদান রয়েছে (যেমন আবাস যোজনা বা স্বাস্থ্য প্রকল্প), সেগুলোর নাম দিল্লির নির্দেশিকা অনুযায়ী ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে প্রকল্পের নামকরণ নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে তীব্র সংঘাত দেখা গিয়েছিল। এবার ক্ষমতায় এসে বিজেপি সেই সংঘাতের মূলে কুঠারাঘাত করতে চায়।

শনিবারের শপথ অনুষ্ঠানের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেই স্পষ্ট হবে, ‘বিশ্ববাংলা’র জায়গায় নতুন কোনও লোগো আসছে নাকি অশোক স্তম্ভই হবে মূল প্রতীক। আপাতত নবান্নের প্রত্যেক দফতরকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে কেন্দ্রের যে কোনও বার্তার ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বাংলা এখন এক ঐতিহাসিক রদবদলের সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায়।

Related Articles