‘আমি ব্যর্থ’, বিপর্যয়ের দায় নিয়ে তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন বিবেক গুপ্ত
সোমবার রাতে নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পরেই নিজের সমাজমাধ্যমে এই বড় ঘোষণা করেন তিনি।
Truth of Bengal: পনেরো বছরের শাসনকাল শেষে বাংলায় ফের পালাবদল। রাজ্যজুড়ে বইতে থাকা প্রবল গেরুয়া ঝড়ে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের এই নজিরবিহীন বিপর্যয়ের নৈতিক দায় স্বীকার করে এবার তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জোড়াসাঁকোর প্রাক্তন বিধায়ক বিবেক গুপ্ত। সোমবার রাতে নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পরেই নিজের সমাজমাধ্যমে এই বড় ঘোষণা করেন তিনি।
তৃণমূলের হিন্দিভাষী সেলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বিবেক। দলের হিন্দি শাখার চেয়ারম্যান হিসেবেও তাঁর ওপর বড় দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে জোড়াসাঁকো সহ শহরের বিভিন্ন হিন্দিভাষী এলাকায় ঘাসফুল শিবিরের ফলাফল অত্যন্ত শোচনীয়। শহর ও সংলগ্ন অঞ্চলের হিন্দিভাষী ভোটব্যাঙ্ক যে শাসকদলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তা ফলের ব্যবধানেই স্পষ্ট। রাজনৈতিক মহলের মতে, হিন্দিভাষী ভোটারদের মন জয়ে চূড়ান্ত ব্যর্থতা এবং উত্তর কলকাতায় দলের ধরাশায়ী অবস্থার নৈতিক দায় কাঁধে নিয়েই বিবেক ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে জোড়াসাঁকো কেন্দ্র থেকে বিদায়ী বিধায়ক বিবেকের বদলে বিজয় উপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত দলের জন্য ফলপ্রসূ হয়নি। বিজেপির বিজয় ওঝা পাঁচ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে এই কেন্দ্রটি ছিনিয়ে নিয়েছেন। বিবেকের বদলে অন্য প্রার্থীকে দাঁড় করিয়েও পরাজয় এড়ানো সম্ভব হয়নি জোড়াসাঁকোয়। সমাজমাধ্যমে নিজের ইস্তফাপত্র প্রসঙ্গে বিবেক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, একজন নেতা হিসেবে তিনি এই সাংগঠনিক ব্যর্থতা মেনে নিচ্ছেন এবং আপাতত দলের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।
পরাজয় মেনে নেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সৌজন্যও প্রদর্শন করেছেন এই প্রাক্তন বিধায়ক। এলাকার মানুষের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন যে, জোড়াসাঁকোর ভোটাররা তাঁদের রায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য বিজয় ওঝাকে বেছে নিয়েছেন। নবনির্বাচিত বিধায়ক যাতে এলাকার জন্য ভালো কাজ করতে পারেন, সেই আশাপ্রকাশও করেছেন তিনি। গত দেড় দশকে তৃণমূলের হিন্দি বলয়ের অন্যতম কাণ্ডারি হিসেবে বিবেকের এহেন সরে দাঁড়ানো বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শাসকদলের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে।






