স্বাধীনতার পর বঙ্গে ভোটের সর্বকালীন রেকর্ড! একুশের নির্বাচনকেও কি ছাপিয়ে গেল ভোটদানের হার?
৯১ লক্ষ ভোটারের নাম গায়েব! তবুও রেকর্ড ভোটদান বঙ্গে, কার কপালে ভাঁজ ফেলছে এই SIR ফ্যাক্টর?
Truth of Bengal: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার পর দ্বিতীয় দফাতেও ইতিহাস গড়ল পশ্চিমবঙ্গ। বৃহস্পতিবার রাজ্যের ৭টি জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণের হার বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় ৯২.৪৬ শতাংশ ছুঁয়েছে, যা ২০২১ সালের ৮০.৪ শতাংশের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনেও কোনও পুনর্নির্বাচন ছাড়াই বিপুল ভোট পড়েছিল, আর এবার দ্বিতীয় দফাতেও সেই ধারা বজায় থাকল। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর বাংলায় দুই পর্ব মিলিয়ে এটাই সর্বোচ্চ ভোটদান। কমিশনের মতে, রাজ্যের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎসবের মেজাজে অংশ নিয়েছেন এবং নির্বাচন মোটের উপর অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল ভোটবৃদ্ধির নেপথ্যে প্রধানত কাজ করেছে নির্বাচন কমিশনের ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া। এই স্বচ্ছ্বতা অভিযানে বাংলা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ অস্তিত্বহীন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যারা হয় মৃত না হয় স্থানান্তরিত। মোট ভোটারের প্রায় ৮-৯ শতাংশ জুড়ে থাকা এই ভুয়ো ভোটাররা তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় গাণিতিক নিয়মেই ভোটের হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি বেড়ে গিয়েছে। এছাড়াও ভোটারদের মধ্যে একটি প্রচ্ছন্ন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে, এবার ভোট না দিলে ভবিষ্যতে নথিপত্র সংক্রান্ত সমস্যায় পড়তে হতে পারে। এই আতঙ্ক কাটিয়ে নিজের অধিকার সাব্যস্ত করতে ভিনরাজ্য থেকে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকও এবার ভোট দিতে ভিড় জমিয়েছেন।
এখন বড় প্রশ্ন হল, এই ‘রেকর্ড’ ভোটবৃদ্ধি কার ভাগ্য নির্ধারণ করবে? রাজনৈতিক মহলে পুরনো তত্ত্ব অনুযায়ী, বিপুল ভোট মানেই প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এবং বিজেপির জয়ের পথ প্রশস্ত হওয়া। কিন্তু সাম্প্রতিক বিহার নির্বাচনের মতো একাধিক উদাহরণ বলছে, বেশি ভোট পড়লেই সবসময় শাসকদলের পতন হয় না। বরং এবারের নির্বাচনে SIR-এর বিরোধিতাও একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে, যার সুবিধা পেতে পারে ঘাসফুল শিবির। শেষ হাসি কে হাসবে, তৃণমূল না বিজেপি- তা নিয়ে দুই শিবিরই জেতার দাবি করলেও, ভোটদাতাদের এই বিপুল উপস্থিতি রাজ্যে কোনও বড় রাজনৈতিক ‘ওয়েভ’ বা ঝড়েরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ৪ মে ফলাফল ঘোষণার দিন পর্যন্ত তাই চরম উৎকণ্ঠায় কাটবে রাজনৈতিক মহলের।






