অস্ত্র ত্যাগ থেকে সামরিক শক্তির পুনরুত্থান! জার্মানি ও জাপানের নতুন ‘যুদ্ধ-নীতি’তে কী হবে?
বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে
Truth of Bengal: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘ সময় ধরে জার্মানি ও জাপান নিজেদের সামরিক শক্তিকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখেছিল। যুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কারণে দুই দেশই প্রতিরক্ষা নির্ভর কৌশল গ্রহণ করে এবং আন্তর্জাতিক জোটের ছত্রছায়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বদলে দিচ্ছে সেই পুরনো সমীকরণ। এখন দুই দেশই ধীরে ধীরে নিজেদের সামরিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করার দিকে এগোচ্ছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
জার্মানি এখন আর শুধু অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে থাকতে চাইছে না, বরং ইউরোপের নিরাপত্তার প্রধান স্তম্ভ হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় তারা ঘোষণা করেছে যে আগামী বছরগুলিতে তাদের সেনাবাহিনীকে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত সামরিক শক্তিতে পরিণত করা হবে। এই পরিবর্তন শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আইন করে প্রতিরক্ষা খাতে নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে সামরিক প্রস্তুতিতে কোনও বাধা না আসে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নির্ভুল আক্রমণ ক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জার্মানির সামরিক কাঠামোকে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে।
অন্যদিকে জাপানও দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসছে। দেশটি এখন প্রতিরক্ষা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে এবং মারাত্মক অস্ত্র রফতানির ওপর থাকা পুরনো নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এর মাধ্যমে জাপান বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসাবে উঠে আসছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাজেটও বাড়ানো হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের সীমারেখা ভেঙে দিয়েছে। জাপান এখন শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকানোর জন্য পাল্টা আঘাতের সক্ষমতাও তৈরি করছে। চিন ও উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান চাপ এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসাবে দেখা হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব পালন করে আসছে, কিন্তু এখন তারা ধীরে ধীরে এই দায়ভার ভাগ করে নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। ফলে জার্মানি ও জাপান নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করার দিকে এগোতে বাধ্য হচ্ছে। এই পরিবর্তন শুধু সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক মানসিকতারও পরিবর্তন। যে দেশগুলি একসময় যুদ্ধের ভয়ে সংযত ছিল, তারা এখন বাস্তবতার চাপে শক্তি বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বে নতুন করে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে, যেখানে আস্থা ও প্রতিরক্ষার ধারণা আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠছে।


