ভোটের মুখে রণক্ষেত্র জগদ্দল, থানার মধ্যেই তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ
রীতিমতো লাঠিচার্জ পুলিশের! ভাটপাড়া-জগদ্দল সীমানায় রাতভর উত্তেজনা, মোতায়েন বিশাল বাহিনী
Truth of Bengal: ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে অগ্নিগর্ভ উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল! সোমবার শেষবেলার প্রচারের আগেই রবিবার রাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল জগদ্দল থানা চত্বর। দুই প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ থেকে শুরু করে পুলিশের সামনেই ইটবৃষ্টি, সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে শিল্পাঞ্চলে কার্যত বারুদের স্তূপ।
ঘটনার সূত্রপাত জগদ্দলের আটচালা বাগান এলাকায়। রবিবার সন্ধ্যায় সেখানে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় নামানো হয় র্যাফ (RAF) ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে জগদ্দল থানায় পৌঁছান স্থানীয় বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমার এবং নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং।
বিজেপির অভিযোগ, খোদ থানার ভেতরেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের ওপর চড়াও হয়। শুরু হয় ব্যাপক ইটবৃষ্টি। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক হয় যে বিজেপি প্রার্থীদের নিরাপত্তার খাতিরে থানার ভেতরেই দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হয়। থানা থেকে বেরিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন রাজেশ কুমার। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, “আমার বিরুদ্ধে বিদায়ী চিফ মিনিস্টার মানুষকে উস্কে দিয়েছেন। থানার ভেতরে আইসি-রা পালিয়ে গিয়েছেন আর গুন্ডারা এসে আমাদের লোকেদের পিটিয়েছে। এই চটিচাটা পুলিশ গুন্ডাদের দিয়ে আক্রমণ করিয়েছে।” পাল্টা অভিযোগে সরব হয়েছেন ভাটপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী অমিত গুপ্তা। তাঁর দাবি, বিজেপি কর্মীরাই প্রথমে তাঁদের এক কর্মীকে মারধর করেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, অর্জুন সিং এবং তাঁর অনুগামীরা থানায় এসে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন এবং স্থানীয়দের ওপর চড়াও হন।
দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ এবং লাগাতার ইটবৃষ্টি সামাল দিতে পুলিশকে শেষ পর্যন্ত লাঠিচার্জ করতে হয়। বর্তমানে গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। উল্লেখ্য, আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে এই এলাকায়। তার ঠিক আগেই জগদ্দল ও ভাটপাড়ার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত কমিশনের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দিয়েছে।






