রাজ্যের খবর

স্ত্রী-সন্তানের সামনেই নারকীয় তাণ্ডব! আসানসোলে কংগ্রেস কর্মীকে পিটিয়ে খুন

পুলিশ ফাঁড়ির সামনে মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভে কংগ্রেস কর্মীরা

Truth of Bengal: ভোট মিটতেই কি বাংলায় শুরু হয়ে গেল লাশের রাজনীতি? প্রথম দফার শান্তিনির্ভর ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই আসানসোলে কংগ্রেস কর্মীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে ছড়াল তীব্র উত্তেজনা। শুক্রবার রাতে আসানসোল উত্তর বিধানসভা এলাকায় দেবদীপ চট্টোপাধ্যায় নামে এক যুবককে ‘পিটিয়ে খুনের’ অভিযোগ উঠল শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে আসানসোল দক্ষিণ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন কংগ্রেস প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতে। আসানসোল উত্তরের কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডির প্রতিবেশী তথা তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট দেবদীপ চট্টোপাধ্যায় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযোগ, মাঝপথে একদল দুষ্কৃতী তাঁদের গাড়ি আটকায়। দুষ্কৃতীরা দেবদীপের স্ত্রী ও সন্তানকে গাড়িতে তুলে দিয়ে দেবদীপের ওপর চড়াও হয়। বচসা চলাকালীন দেবদীপ কংগ্রেস প্রার্থীর নাম নিতেই দুষ্কৃতীরা মারমুখী হয়ে ওঠে বলে দাবি। প্রার্থীর অভিযোগ, “ওরা সব তৃণমূলের পোষা গুণ্ডা। দেবদীপ আমার হয়ে প্রচার করছিল বলেই ওকে লাথি, ঘুসি মেরে মাটিতে ফেলে খুন করা হয়েছে। ওর অপরাধ ও কংগ্রেস প্রার্থীর নাম নিয়েছিল।”

বিরোধীদের দাবি, এটি এই দফার নির্বাচনের প্রথম ‘রাজনৈতিক বলি’। যদিও এই খুনের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। জেলা তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাশু বলেন, “কংগ্রেসের এখানে এত শক্তি নেই যে কাউকে খুন করে সরাতে হবে। তৃণমূলকে বদনাম করতে এসব বলা হচ্ছে। তবে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।”

ইতিমধ্যেই আসানসোল দক্ষিণ পুলিশ ফাঁড়ি চত্বরে কংগ্রেস কর্মীদের বিক্ষোভ এবং স্লোগান ঘিরে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের আকার নিয়েছে। পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি নিছক বচসা না কি পরিকল্পিত রাজনৈতিক খুন, তা খতিয়ে দেখছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। ঘটনার পর আসানসোলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।

Related Articles