রাজ্যের খবর

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বিলি ঘিরে উত্তেজনা, চুঁচুড়ায় তৃণমূল-বিজেপি কর্মীদের ধস্তাধস্তি

আধার ও ভোটার কার্ডের তথ্য সংগ্রহের সময় প্রলোভনের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে

সৌগত রায়, চুঁচুড়া: ভোটের মুখে ফের মাথাচাড়া দিল ‘কার্ড রাজনীতি’! চন্দননগরে হুগলি জেল সংলগ্ন এলাকায় ভোটারদের আধার ও ভোটার কার্ডের তথ্য সংগ্রহের সময় আর্থিক প্রলোভন দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র বচসা ও ধস্তাধস্তি বাধে, যা ঘিরে শুক্রবার বিকেলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় চন্দননগর বিধানসভা কেন্দ্রের সোমড়াবাজার এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার বিকেলে চুঁচুড়ার বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগের সমর্থনে বিজেপি কর্মীরা হুগলি জেলা সংশোধনাগারের পাশের এলাকায় জনসংযোগে বের হন। অভিযোগ, বাড়ি বাড়ি প্রচারের সময় তাঁরা স্থানীয় মহিলাদের আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের তথ্য চেয়ে একটি ফর্ম ফিলাপ করাতে শুরু করেন। বিজেপি কর্মীরা দাবি করেন, গেরুয়া শিবির ক্ষমতায় এলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায় মহিলাদের প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়া হবে। সেই প্রকল্পের নাম নথিভুক্ত করাতেই এই তথ্য নেওয়া হচ্ছে বলে বাসিন্দারা জানান।

এই তথ্য সংগ্রহের খবর চাউর হতেই স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ও বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিবাদ জানান। সরকারি তথ্য ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহের অধিকার বিজেপির নেই বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা। এই নিয়ে শুরু হয় তর্কাতর্কি, যা মুহূর্তে ধস্তাধস্তির রূপ নেয়। অভিযোগ, প্রতিবাদের মুখে বিজেপি কর্মীরা মারমুখী হয়ে ওঠেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও তৃণমূল কর্মীদের দিকে তেড়ে যান। এই সময় এক তৃণমূল কর্মীকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। সম্পূর্ণ ঘটনাটি স্থানীয়রা মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করেন।

নির্বাচনের মুখে এমন অভিযোগ সামনে আসায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অশোক গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি জেনে গিয়েছে তাদের জয় অসম্ভব। তাই এখন টাকার লোভ দেখিয়ে, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহিলাদের ভুল বোঝাচ্ছে। সরকারি তথ্য সংগ্রহ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এর আগে বিশ্বকর্মা যোজনার ফর্ম ফিলাপ করিয়ে এক লাখ টাকা বেকার যুবকদের দেওয়ার কথা বলেছিল বিজেপি সেটা পাওয়া যায়নি। ভোট এলেই ভাঁওতা দেয় বিজেপি।” তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

পাল্টা দাবিতে বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর সাফ কথা, “তৃণমূল ভয় পেয়েছে বলেই আমাদের প্রচারে বাধা দিচ্ছে এবং মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। মহিলাদের ৩০০০ টাকা দেওয়ার কথা আমাদের ইস্তেহারে রয়েছে। আমরা কেবল সেই প্রতিশ্রুতি প্রচার করছিলাম। কেউ যদি খুশি হয়ে কার্ড দেখান, তাতে ভুল কী আছে? ইস্তেহারে বলা সব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে বিজেপি। আসলে তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে বলেই তারা বিজেপির বিরুদ্ধে এই ধরণের মিথ্যা অভিযোগ আনছে।” এলাকায় উত্তেজনা থাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে।

Related Articles