তীব্র দাবদাহ রুখতে কেরলে ‘সেলফ লকডাউন’-এর ডাক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের
এই সময়কালকে তিনি অনেকটা কোভিডকালের মতো স্বেচ্ছায় লকডাউন বা সেল্ফ লকডাউন হিসেবে পালন করার কথা বলেছেন।
Truth of Bengal: তীব্র দাবদাহে পুড়ছে কেরল। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী পাল্লাক্কড়, কোল্লাম এবং ত্রিচুরের মতো জেলাগুলিতে পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছে। তাপপ্রবাহের পাশাপাশি বাতাসে অত্যধিক আর্দ্রতার কারণে জনজীবন কার্যত ওষ্ঠাগত। এই চরম আবহাওয়া মোকাবিলায় কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন রাজ্যবাসীকে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষকে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরনোর পরামর্শ দিয়েছেন। এই সময়কালকে তিনি অনেকটা কোভিডকালের মতো স্বেচ্ছায় লকডাউন বা সেল্ফ লকডাউন হিসেবে পালন করার কথা বলেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, দুপুরের চড়া রোদে রাস্তায় বেরলে হিটস্ট্রোক বা সানস্ট্রোকের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে, যা প্রাণঘাতী হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কারও মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া কেউ গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত ছায়ায় নিয়ে গিয়ে শরীর ঠান্ডা করার প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যজুড়ে সব ধরণের প্রকাশ্য জনসমাবেশ, আউটডোর খেলাধুলা, কুচকাওয়াজ এবং আতশবাজির প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তাপপ্রবাহের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে দমকল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রখর রোদে কাজ করা দিনমজুরদের সুরক্ষায় তাঁদের কাজের সময় পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। আপদকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলায় হাসপাতাল, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবাগুলিকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পশুপাখিদের কষ্টের কথা মাথায় রেখে বাড়ির বাইরে জল ও ছায়ার ব্যবস্থা করার জন্য আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, আপাতত কেরলের বেশ কিছু অংশে এই বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। যেসব এলাকায় সরকারিভাবে তাপপ্রবাহের সতর্কতা নেই, সেখানেও অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হচ্ছে। গরমের হাত থেকে বাঁচতে এবং প্রাণহানি এড়াতে রাজ্য সরকারের এই কড়া বিধিনিষেধ ও পরামর্শ যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। মূলত দুপুরের দিকে রাস্তায় জনসমাগম কমিয়ে পরিস্থিতির ভয়াবহতা কমানোই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।






