গোসাবায় উন্নয়নের আকাল, পরিবর্তনের দাবিতে সরব দ্বীপবাসী
বাস্তবে গোসাবার মানচিত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বললেই চলে
গোপাল শীল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বামফ্রন্টের ৩৪ বছর এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছর—অর্ধশতাব্দীর এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমা পেরিয়েও ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি সুন্দরবনের গোসাবা ব্লকের বাসিন্দাদের। নদীঘেরা এই দ্বীপগুলির সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দশকের পর দশক ধরে ক্ষমতার হাতবদল হলেও তাঁদের জীবন আজও সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। উন্নয়নের বড় বড় প্রতিশ্রুতি কেবল নির্বাচনী ইশতেহারেই সীমাবদ্ধ থেকেছে, বাস্তবে গোসাবার মানচিত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বললেই চলে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সুন্দরবনের এই প্রান্তে আজও যাতায়াতের জন্য কোনো স্থায়ী সেতু নেই। নদীমাতৃক এই এলাকায় খেয়া পারাপারই একমাত্র ভরসা, যা বর্ষাকালে বা দুর্যোগে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও নদীবাঁধের স্থায়ী সংস্কার হয়নি, যার ফলে প্রতি বছর জলোচ্ছ্বাসে ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্ক তাড়া করে বেড়ায়। এর পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব এবং অনুন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা এখানকার নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা।
প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সঙ্গেই এখানে লড়াই করতে হয় জীবনের। একদিকে জলে কুমির আর অন্যদিকে জঙ্গলে বাঘের আতঙ্ক—এই দুইয়ের মাঝেই মাছ ধরা, কাঁকড়া বা মধু সংগ্রহের মতো জীবনঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় বাসিন্দাদের। কাজের সুযোগ না থাকায় এলাকার যুবকদের বড় অংশই আজ পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কলকাতার দিকে পাড়ি জমাতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলে জনজীবন পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়, অথচ সেই ক্ষত মেরামতে প্রশাসনের উদ্যোগ চোখে পড়ে না বলে তাঁদের আক্ষেপ।
এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোসাবায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ দানা বাঁধছে। স্থানীয়দের বড় অংশের দাবি, তাঁরা সব দলকেই পর্যাপ্ত সুযোগ দিয়েছেন কিন্তু প্রত্যাশিত পরিষেবা পাননি। তাই এবার ‘পরীক্ষামূলকভাবে’ নতুন বিকল্প হিসেবে বিজেপিকে পাঁচ বছরের জন্য সুযোগ দিতে চাইছেন তাঁরা। উন্নয়ন না হওয়ার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই দ্বীপবাসী এবার পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছেন, যা আসন্ন নির্বাচনে শাসক শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।






