আন্তর্জাতিক

চাঁদের পথে মহাকাশে চরম বিপত্তি! নাসার ক্যাপস্যুলে বিকল শৌচাগার

মহাকাশযানের শৌচাগার থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ক্যাপস্যুলের ভিতরে থাকা কঠিন হয়ে উঠছে বলেই দাবি করা হয়েছে।

Truth of Bengal: চাঁদের উদ্দেশে রওনা হয়ে অর্ধেকেরও বেশি পথ অতিক্রম করেছে নাসার আর্টেমিস-২ মিশন। চাঁদের দিকে এগোতে এগোতে মহাকাশচারীরা যখন অভূতপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করছেন— পৃথিবীকে ছোট হতে দেখছেন, চাঁদকে বড় হতে দেখছেন— ঠিক সেই সময়েই ওরিয়ন ক্যাপস্যুলের ভিতরে তৈরি হয়েছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। মহাকাশযানের শৌচাগার বিকল হয়ে পড়ায় ক্যাপস্যুলের ভিতর থেকে ভেসে আসছে তীব্র দুর্গন্ধ। নাসা সূত্রে খবর, এই ‘টয়লেট বিভ্রাট’ ঘিরে মহাকাশচারীরা কার্যত বিপাকে পড়েছেন। নাসা জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের পর থেকেই শৌচালয়ের সমস্যাটি দেখা দিয়েছে। কখনও সমস্যা কমছে, কখনও আবার বেড়ে যাচ্ছে। মিশনের তৃতীয় দিন থেকেই এই ‘ফ্লাশিং’ সমস্যার কথা প্রকাশ্যে আসে। মহাকাশযানের শৌচাগার থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ক্যাপস্যুলের ভিতরে থাকা কঠিন হয়ে উঠছে বলেই দাবি করা হয়েছে।

ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ওরিয়ন মহাকাশযান। চার মহাকাশচারী— কমান্ডার রিড ওয়াইসম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, অভিযান বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার মহাকাশচারী জেরেমি হানসেনকে নিয়ে এগোচ্ছে এই মিশন। চার জনের মধ্যে তিন জন আমেরিকার নাগরিক এবং এক জন কানাডার। সোমবার তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছোনোর কথা রয়েছে। চাঁদের পথে এগোতে এগোতে একাধিক ছবি তুলেছেন তাঁরা। মহাকাশচারী ভিক্টর গ্লোভার জানিয়েছেন,পৃথিবীকে ক্রমেই ছোট দেখতে লাগছে। চাঁদ অবশ্যই বড় হচ্ছে।

তবে সেই রোমাঞ্চের মধ্যেই সমস্যা তৈরি করেছে শৌচালয়ের বিপত্তি। নাসা সূত্রে খবর, যতক্ষণ না সমস্যার সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ ‘ব্যাকআপ’ হিসাবে রাখা প্রস্রাব ভরার ব্যাগ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে মিশন কন্ট্রোল। ইঞ্জিনিয়ারদের একাংশের অনুমান, মহাকাশযানের শৌচালয়ে প্রস্রাব সম্পূর্ণভাবে ফ্লাশ না হওয়ায় বরফ জমে সমস্যা তৈরি হতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, কয়েক বছর আগেই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে এই ক্যাপসুলের শৌচালয় পরীক্ষা করা হয়েছিল। তবু উৎক্ষেপণের পরেই ফের বিপত্তি দেখা দিয়েছে।

নাসার ওরিয়ন প্রকল্পের ডেপুটি ম্যানেজার ডেবি কর্থ জানিয়েছেন, মহাকাশে শৌচালয়ের ব্যবস্থা রাখা এবং তা পরিচালনা করা সত্যিই একটি বড় ‘চ্যালেঞ্জ’। অন্যদিকে, অভিযানের ম্যানেজমেন্ট টিমের চেয়ারম্যান জন হানিকাট জানান, মহাকাশচারীরা সম্পূর্ণ সুস্থ এবং নিরাপদ রয়েছেন। তিনি বলেন, মহাকাশচারীদের সব ধরনের পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাস রয়েছে। তবে মহাকাশে কমোড সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহও বরাবর বেশি। উল্লেখ্য, আর্টেমিস-২ মিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওরিয়ন মহাকাশযান পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লক্ষ কিলোমিটার দূরে গিয়ে চাঁদের পিছন দিক থেকে ইউ-টার্ন করে আবার পৃথিবীর অভিমুখে ফিরে আসবে। চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ না করেই এই যাত্রা সম্পন্ন হবে।

Related Articles